রাজধানীর একসময়ের অভিজাত শপিং মল ইস্টার্ন প্লাজা। চলন্ত সিঁড়ি, লিফট সুবিধা ও ক্রেতা চাহিদার সব পণ্য এক জায়গায় মেলায় একসময় দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিল বিপণিবিতানটি। টেলিভিশনে প্রচার হত এর বিজ্ঞাপনও। গত এক দশকে সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন আর আগের মতো যেমন ক্রেতা নেই, তেমনি নেই দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়।
হাতিরপুলের অভিজাত বিপণিবিতানটির এ দুর্দশার অন্যতম কারণ রাজধানীর আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন শপিং মলের সংখ্যা বৃদ্ধি। এছাড়া অনলাইন কেনাকাটায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ায় ইস্টার্ন প্লাজা তার জৌলুস হারিয়েছে বলে জানান সেখানকার ব্যবসায়ীরা।
গতকাল সন্ধ্যায় শপিং মলটিতে ঘুরে দেখা গেছে, মার্কেটের নিচতলায় বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী, খেলার সামগ্রী ও পোশাকের দোকান থাকলেও গুটিকয়েক ক্রেতা রয়েছেন। বেশির ভাগ দোকানের কর্মচারীরা মোবাইলে সময় পার করছেন, কেউবা গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন।
শপিং মলের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনলাইনকেন্দ্রিক ব্যবসা বেড়ে যাওয়ায় শপিং মলের ক্রেতায় ধস নেমেছে। বিক্রি না থাকায় অনেকে ব্যবসা পরিবর্তন করছেন। অনেকে বিক্রি বাড়াতে ও ক্রেতা টানতে ব্যবসায়িক কৌশল বদলাচ্ছেন। যদিও এসব চেষ্টা করে ক্রেতার সমাগম ও বিক্রি খুব বেশি বাড়ছে না বলেও জানান তারা।
শপিং মলের বিভিন্ন ফ্লোর ঘুরে দেখা গেছে, ওপরতলায় অনেকগুলো দোকানের শাটার বন্ধ। অনেকগুলো দোকান খালি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অনেকে দোকান ছেড়ে দিয়ে চলে গেছেন।
তবে এ পরিস্থিতি যে শুধু ইস্টার্ন প্লাজা শপিং মলের, বিষয়টি এমন নয়। রাজধানীর অভিজাত ও পুরনো অন্তত ১০টি শপিং মল ঘুরে দেখেছেন বণিক বার্তার প্রতিবেদকরা। এসব শপিং মল হলো ইস্টার্ন মল্লিকা, পুলিশ প্লাজা, রাপা প্লাজা, সীমান্ত স্কয়ার, হোসাফ টাওয়ার, মৌচাক মার্কেট ও মিরপুর-১০-এ অবস্থিত শাহ আলী মার্কেট। প্রায় সব শপিং মলে ক্রেতার আনাগোনা কম দেখা গেছে। এমনকি ব্যবসায় বিপুল পরিমাণ লোকসানের কথাও তুলে ধরেন বিপণিবিতানের ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

ক্রেতাশূন্য শপিং মলের প্রায় সব দোকান ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী
ক্রেতা স্বল্পতায় সম্প্রতি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকার এক সময়ের অভিজাত বিপণিবিতান কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স। রাজধানীর কাকরাইলে গত শতাব্দীর শেষ দিকে চালু হওয়া অভিজাত এ বিপণিবিতানে জামা, জুতা, প্রসাধনী, জুয়েলারিসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে ভিড় জমাতেন মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তরা। সময়ের ব্যবধানে নানা কারণে ক্রেতা হারাতে থাকা শপিং কমপ্লেক্সটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বেচাকেনা এতটাই কমে গিয়েছিল যে দোকান মালিকরা এটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।
১৯৯৮ সালে নির্মিত ২০ তলা ভবনের বেজমেন্ট ও চারতলা নিয়ে চালু হয় কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি। ভবনের বাকি তলায় ছিল অ্যাপার্টমেন্ট। বিপণিবিতান বন্ধ করার পাশাপাশি মালিকানায় থাকা ব্যবসায়ীদের অনেকেই দোকান বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিভিন্ন শপিং মলের ব্যবসায়ী সমিতি ও দোকান মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শপিং মলগুলো বন্ধ করার সময়সীমা বিভিন্ন সময় এগিয়ে নিয়ে আসা এবং রাজধানীতে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন বড় বড় বেশ কয়েকটি শপিং মল তৈরি হওয়ায় পুরনো শপিং মলগুলোতে মানুষের সমাগম কমে গেছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের বড় একটি অংশ অনলাইন কেনাকাটায় ঝুঁকে পড়েছে। এসবের পাশাপাশি বর্তমান মূল্যস্ফীতিও কিছুটা দায়ী বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শপিং মলগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রি কমে যাওয়ার মূল কারণ মূলত সময়সীমা কমিয়ে আনা। শপিং মলগুলোর বিক্রির পিক টাইম সন্ধ্যাবেলা। কিন্তু এসব মল খোলা রাখার সময়সীমা রাত ৮টা পর্যন্ত, যে কারণে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। এর বাইরে আরো একটি কারণ হলো মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া। আমরা দোকান খোলা রাখার সময়সীমা আরো ১ ঘণ্টা বাড়ানোর জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। তাতে অন্তত ক্রেতা সমাগম মার্কেটগুলোতে বাড়লে ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারবেন।’
রাজধানীর আরেক অভিজাত বিপণিবিতান ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্স। এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত এ বিপণিবিতান পোশাক ও শাড়ির সমাহার, বিয়ে ও প্রসাধনী সামগ্রী এবং সহজলভ্য দামের কারণে ক্রেতাদের আকর্ষণ করত। সেখানেও ক্রেতাদের সমাগম আগের তুলনায় অনেক কম। আগের মতো নেই ভিড়ভাট্টা, ক্রেতাদের সমাগম। এর অন্যতম কারণ মার্কেট খোলা রাখার সময়সীমা কমিয়ে আনা।
বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, খুব বেশি ক্রেতা নেই। ক্রেতা কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে শপিং কমপ্লেক্সটির নিচতলায় অবস্থিত কালার কসমেটিকসের বিক্রেতা নুসাইবা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বেচাবিক্রি তেমন নেই। এর একটি বড় কারণ দ্রুত মার্কেট বন্ধ হয়ে যাওয়া। আগে দেখা যেত, চাকরিজীবীরা বাসায় গিয়ে ৮টার দিকে মার্কেটে এসে ১০টা পর্যন্ত কেনাকাটা করতেন। কিন্তু এখন ৮টায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্রেতা পাচ্ছি না।’
আগের মতো মুনাফা না পেলেও মৌসুমকেন্দ্রিক ব্যবসায় বিক্রি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সেখানকার আরেক দোকানি। তার ভাষায়, ঈদসহ অন্যান্য উৎসব ও বিশেষ দিনে বেচাকেনা ভালো হয়। বাকি সময়টাকে অফ সিজন হিসেবে দোকানিরা শুধু দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন ওঠাতেই মনোযোগ দেন।
রাজধানীর মৌচাক ও শান্তিনগর এলাকার শপিং মলগুলোয় এখন ক্রেতার আকাল। একসময় ক্রেতাদের পদচারণে মুখর থাকা এসব বিপণিবিতানের বিস্তীর্ণ করিডোর এখন প্রায় ফাঁকা। কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) আধুনিক শপিং মল থেকে শুরু করে পুরনো মার্কেট সর্বত্রই বেচাকেনায় মন্দা। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ে নিত্যপণ্য কেনাই কঠিন হয়ে পড়ায় পোশাক, প্রসাধনী ও জুতার মতো পণ্যে ক্রেতারা ব্যয় কমিয়েছেন বলে জানান শপিং মলের দোকানিরা। এতে বিক্রি কমার পাশাপাশি দোকান ভাড়া ও পরিচালন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর মৌচাক এলাকার ফরচুন শপিং। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে শপিং মল ঘুরে দেখা গেছে, পোশাক ও জুতার দোকানগুলোয় ক্রেতা নেই বললেই চলে। বিক্রয় কর্মীদের কেউ মোবাইল ফোনে, কেউ গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন।
ফরচুন শপিং মলের জুতার দোকানের একজন বিক্রয় কর্মী জানান, আগে মাসে ৩-৫ লাখ টাকার বেশি বিক্রি হলেও এখন তা অর্ধেকের নিচে নেমেছে। কোনো কোনো দিন বিক্রির খাতাই খোলা যায় না।
একই মলের এসডি কসমেটিকস কর্নারের বিক্রয় কর্মী মনির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমদানি করা যেসব পণ্যের দাম আগে ১ হাজার টাকা ছিল, সেগুলোর দাম এখন ১ হাজার ৪০০ টাকা। এর সঙ্গে সামান্য মুনাফা যোগ করতেই দাম অনেক বেড়ে যায়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল, দোকান ভাড়া ও সার্ভিস চার্জও বাড়ছে। পণ্যের সঙ্গে এসব ব্যয় যুক্ত হলে অনেক বেশি দাম পড়ে যাচ্ছে। ক্রেতারা দাম শুনলেই কেনার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেন।’
বেচাকেনা কমে ক্রেতাশূন্য দেখা গেছে মৌচাকের হোসাফ টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্সেও। মলের নিচতলার অধিকাংশ দোকান বন্ধ। দোতলার করিডোরও প্রায় ক্রেতাশূন্য। কেন্দ্রীয় এসি ও চলন্ত সিঁড়ি বন্ধ থাকায় ক্রেতাদের জন্য মার্কেটে চলাচলের পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে বলে জানান জননী ক্লথ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মোফাজ্জল হোসেন শরীফ। তার ভাষ্য, বিক্রি অর্ধেকের নিচে নেমেছে, কোনো কোনো দিন একটি সুতাও বিক্রি হয় না। বিক্রির মন্দা ভাবের কথা জানান মৌচাক মার্কেটের রাজ ফ্যাব্রিকসের বিক্রয় কর্মী সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, পূজার সময় কিছুটা বিক্রি হলেও এখন বেচাকেনা নেই। মানুষের আয়ের বড় অংশ খাবার কিনতেই ব্যয় হচ্ছে। ফলে পোশাক, প্রসাধনী ও গয়না এখন অনেকের কাছে বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।

বন্ধ হয়ে যাওয়া কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি
একই চিত্র টুইন টাওয়ার শপিং মল, রাজিয়া শপিং মল, আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স ও মেজবাহ উদ্দিন প্লাজায়। ক্রেতা সংকটে এসব বিপণিবিতানের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আর্থিক চাপে পড়েছেন।
একসময় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতাদের পদচারণে মুখর থাকত রাজধানীর হাতিরঝিলসংলগ্ন গুলশানের পুলিশ প্লাজা কনকর্ড। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারকে কেন্দ্র করে বিক্রি ছিল অন্য দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। তবে সে দৃশ্য এখন আর নেই। সেখানকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাঁচ বছর আগের তুলনায় বিক্রি কমে গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। বর্তমান পরিস্থিতি কভিড সময়ের চেয়ে খারাপ বলে জানান ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ।
গতকাল বিপণিবিতানটি ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ফ্লোরে দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। পোশাক, জুতা ও ফ্যাশনসামগ্রীর দোকানগুলোয় নানা ধরনের মূল্যছাড় ও অফার চললেও দুই-একজনের বেশি ক্রেতা দেখা যায়নি।
পুলিশ প্লাজার ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও এখন কেনাকাটার চেয়ে ঘোরাঘুরি ও বিনোদনের জন্যই বেশি মানুষ মার্কেটে আসছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, পণ্যের বাড়তি দাম এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বেচাকেনায়।
শপিং মলে ক্রেতা কমে যাওয়ার ভিন্ন কথাও জানিয়েছেন ক্রেতাদের অনেকেই। সরাসরি বিপণিবিতানে গিয়ে কেনাকাটার পাশাপাশি অনলাইননির্ভরতা বাড়াই এ পরিস্থিতির বড় কারণ বলে মনে করেন তারা। পুলিশ প্লাজায় কেনাকাটা করতে আসা নুসরাত জাহান জানান, অনলাইন প্লাটফর্মে বিভিন্ন পণ্যের দাম ও অফার বেশি থাকায় অনেকে এখন সরাসরি শপিং মলগুলোতে আসেন না। সে কারণে আগের মতো এখন আর ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায় না।
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা মিরপুর-১০। কয়েকদিন আগেও এখানকার শপিং মল ঘিরে ফুটপাতের বাজার ছিল জমজমাট। সিটি করপোরেশন ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করায় সেখানকার ক্রেতাদের মার্কেটমুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ফ্যাশন-ফ্যাব্রিক, ক্রোকারিজ, জুয়েলারিসহ প্রায় সব ধরনের দোকানেই ক্রেতা সংকট দেখা যাচ্ছে।
শাহ আলী প্লাজার নিচতলার মাহিম ক্রোকারিজ গার্ডেনে গিয়ে দেখা যায়, একজন নারী চাকরিজীবী ১ হাজার ৬৫০ টাকার পণ্য কিনেছেন। দোকানটির স্বত্বাধিকারী মো. জসীম উদ্দিন জানান, সকাল থেকে এটুকুই বিক্রি হয়েছে। বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য প্রতিবেদককে নিজের লেজারবুকও দেখান তিনি।
প্লাজার তৃতীয় তলার বোম্বে কালেকশনের স্বত্বাধিকারী মো. মঈন উদ্দিন ২০০৩ সাল থেকে ব্যবসা করছেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়িক জীবনে বেচাকেনার এমন দুরবস্থা আর দেখেননি। কয়েক মাস ধরে বিক্রি নেই বললেই চলে। অথচ মাসে প্রায় ১৪ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এর সঙ্গে দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের খরচ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার উপক্রম হয়েছে।’
একই চিত্র মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী বেনারশী পল্লীতেও। শাড়ি ও বস্ত্রের জন্য পরিচিত এ এলাকার দোকানগুলোয় ক্রেতাদের আনাগোনা খুবই কম। বেনারশী পল্লীর প্রবেশমুখে অবস্থিত রেসা বেনারশীর বিক্রয় প্রতিনিধি মো. সোহাগ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তুলনামূলক বেশি ক্রেতা আসার কথা থাকলেও এখনো বিক্রির খাতা খুলতে পারিনি।’










