বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বহুল আলোচিত প্রযুক্তির নাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যেই এআইয়ের পেছনে বৈশ্বিক বিনিয়োগ ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছবে। আর মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এত বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আকর্ষণ করায় মোট দেশজ উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ওই সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
এইআই খাতে এত বিপুল বিনিয়োগ হলেও অর্থনীতিতে বড় রকমের প্রভাব ফেলতে কয়েক বছর সময় লেগে যাওয়ার কথা বলেছে গোল্ডম্যান স্যাকস ইকোনমিক রিসার্চ। তবে ধীরে ধীরে প্রভাব বাড়বে। এআইকে বড় ধরনের রূপান্তর প্রসঙ্গে মার্কিন ব্যাংকটির অর্থনীতিবিদ জোসেফ ব্রিগস ও দেবেশ কোডনানি গবেষণায় লিখেছেন, ব্যবসাগুলোকে ‘নতুন প্রযুক্তি অর্জন, বাস্তবায়ন ও ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াগুলোয় ব্যবহার উপযোগী করতে ভৌত, ডিজিটাল এবং মানব পুঁজিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগের পরিমাণ ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০ হাজার কোটি ডলার হতে পারে।’
গোল্ডম্যান স্যাকস বলছে, গবেষণার প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদন ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ শতাংশে উন্নীত হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের হার অন্যান্য দেশে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ব্রিগস ও কোডনানি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এআই প্রযুক্তি বাজারের নেতৃত্বে রয়েছে। ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলো তুলনামূলক সবার আগে এআই প্রযুক্তিমুখী হবে।’
একই প্রভাব দেখা যাবে, এআই প্রযুক্তির নেতৃত্বে থাকা চীনের মতো অন্যান্য দেশেও। তবে এসব দেশে এআই বিনিয়োগের পরিমাণ তুলনামূলক কম এবং এ খাতে তারা মন্থর গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। এর আগে অবশ্য গোল্ডম্যান স্যাকস বলেছিল, জেনারেটিভ এআইয়ের ‘বিপুল’ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি দশকে ব্যাপক ব্যবহারর ফলে বিশ্বব্যাপী বার্ষিক ১ শতাংশ পর্যন্ত শ্রম শক্তি বাড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের মধ্যে চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এক-চতুর্থাংশেরও কম প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা মনে করেন জেনারেটিভ এআই তাদের কোম্পানিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে বা আগামী এক থেকে তিন বছরের মধ্যে তাদের শ্রমের চাহিদা কমিয়ে দেবে।
তবে তাদের মধ্যে বেশির ভাগ নির্বাহীই প্রত্যাশা করেন, তারা ৩-১০ বছর সময়সীমার মধ্যে এআই প্রযুক্তিতে কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হবে। গোল্ডম্যান স্যাকস বলছে, এ সময়সীমা যদি ঠিক থাকে তাহলে ২০২৫-৩০ সালের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এআই প্রত্যক্ষ ও কার্যকর প্রভাব ফেলতে শুরু করবে।
ব্যবসা কার্যক্রমে এআই অনেক আগে থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এখন জেনারেটিভ এআইয়ের হাত ধরে এটির ব্যবহার দ্রুততার সঙ্গে বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাইক্রোসটের ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি প্রযুক্তি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী চ্যাটজিপিটি অডিও, কোড, ছবি, টেক্সট, সিমুলেশন, থ্রিডি অবজেক্ট এবং ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের ডাটা তৈরি করতে সক্ষম।
সিবি ইনসাইটসের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে আগ্রহ বাড়ার পর ২১৫টি চুক্তি করেছেন বিনিয়োগকারীরা। ২০২১-২২ সালে জেনারেটিভ এআই স্টার্টআপের পেছনে ৪২০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে।










