যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য বিরোধ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সম্প্রতি চীনের প্রযুক্তি বাজারের নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগ বন্ধের নির্বাহী আদেশ দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। এ নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে চীনও হয়তো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন শঙ্কা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের। পাশাপাশি দেশটি হয়তো মার্কিন প্রযুক্তি কেনা বন্ধ করে দিতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা। খবর রয়টার্স।

জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি চীনের সামরিক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধন ও দক্ষতার ব্যবহার বন্ধে চলতি সপ্তাহেই নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন বাইডেন। এ আদেশের অংশ হিসেবে কম্পিউটার চিপসহ চীনের সংবেদনশীল প্রযুক্তিতে মার্কিন বিনিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ আদেশের পর দেশটির বিনিয়োগকারীরা প্রথমে তেমন বিচলিত হননি। কিন্তু বর্তমানে তাদের ভয় বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে চীন হয়তো পাল্টা প্রতিশোধ নেয়ার জন্য কোনো উদ্যোগ নিতে পারে—এমন শঙ্কা করছেন অনেকেই।

নিউ জার্সির চেরি লেন ইনভেস্টমেন্টের অংশীদার রিক মেকলার বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে চীন এখন কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে সেটিই দেখার বিষয়। দুই দেশের মধ্য প্রযুক্তি খাত নিয়ে যে যুদ্ধ চলছে সেটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

বাইডেনের নির্বাহী আদেশের বিষয়ে চীনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এ বিষয়ে তারা পুরো সতর্ক এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার দেশটির রয়েছে। চীনের কিছু বিশ্লেষক জানান, বেইজিংয়ের হাতে খুব বেশি অপশন নেই। আর এ কারণে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।

চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি রফতানিতে চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে মে মাসে চীন চিপ উৎপাদনকারী মাইক্রন টেকনোলজির পণ্য ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোম্পানিগুলোকে জরিমানা করার জন্য বেইজিংকে দোষারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্লাম্ব ফান্ডের সিইও টম প্লাম্ব বলেন, ‘চীন কোনো প্রতিশোধ নেবে না এমনটা ভাবা বোকামি। ভোক্তা বৈদ্যুতিক পণ্য, বিদ্যুচ্চালিত গাড়িসহ অন্যান্য যন্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত রেয়ার আর্থ ম্যাটেরিয়াল রফতানি নিষিদ্ধ করতে পারে তারা।’

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা চীনের সমালোচনাকারীরা জানান, মার্কিন বিনিয়োগকারীরা যে পরিমাণ মূলধন ও প্রযুক্তি জ্ঞান দেশটির প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে পাঠিয়েছেন তা সামরিক খাতের উন্নয়নে যথেষ্ট। অন্যদিকে এ খাতে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য বেইজিং চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে মার্কিন বিনিয়োগ থমকে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্লাম্ব বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন অনেকটা বাধ্য হয়েই এখন প্রযুক্তিগত দিক থেকে মার্কিননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসবে।’

নতুন নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারিকে চীনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ বন্ধের বা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা দেবে। এগুলো হলো সেমিকন্ডাক্টরস, মাইক্রোইলেকট্রনিকস, কোয়ান্টাম ইনফরমেশন টেকনোলজিস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সিস্টেম।

চীনকে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জনে বাধা দেয়ার পাশাপাশি সামরিক খাতে শক্তিশালী হওয়ার পথ রোধে এ নির্বাহী আদেশ দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহার থেকে চীনকে বিরত রাখাই মূল লক্ষ্য। কেননা চীন অগ্রসর হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুযায়ী, মার্কিন সরকারের আদেশটি এন্টারপ্রাইজগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তুলবে।

মন্ত্রণালয়ের আশা, যুক্তরাষ্ট্র বাজার অর্থনীতির আইন ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার নীতিকে সম্মান করবে। এছাড়া কৃত্রিমভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য বিনিময় এবং সহযোগিতাকে বাধা দেয়া বা বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন থেকে বিরত থাকবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিনিয়োগ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধী।