তথ্য সংরক্ষণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত ডাটা সেন্টারের সক্ষমতা এক-তৃতীয়াংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সিঙ্গাপুর। শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির এক মন্ত্রী। খবর নিক্কেই এশিয়া।

সরকারি সূত্রের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সিঙ্গাপুরে ৭০টির বেশি ডাটা সেন্টার রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ডাটা সেন্টার হাব হিসেবে পরিষেবা দিয়ে আসছে। তবে অধিক বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারসহ পরিবেশগত কারণে সম্প্রতি নতুন কোনো ডাটা সেন্টার স্থাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ কারণে অনেক কোম্পানি পাশের দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় ডাটা সেন্টার স্থাপন করছে।

সরকার প্রকাশিত নতুন রোডম্যাপ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, ডিজিটাল শিল্পের বৃদ্ধি এবং ডিকার্বনাইজেশন প্রচেষ্টার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে আরো সুবিধা তৈরিতে আগ্রহী সিঙ্গাপুর। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশটির যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র প্রতিমন্ত্রী জনিল পুথুচেরি বলেন, ‘‌আমরা এ অঞ্চলের পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়ে ডাটা সেন্টার সক্ষমতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখতে চাই। আমাদের শিল্প খাতসংশ্লিষ্টরাও এতে অংশগ্রহণের বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।’

সিনিয়র প্রতিমন্ত্রী জনিল পুথুচেরি জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি নিকট সময়ে ডাটা সেন্টারের আরো ৩০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা বাড়ানো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এছাড়া ২০০ বা তার বেশি মেগাওয়াট সক্ষমতা গ্রিন এনার্জিনির্ভর হবে। বর্তমানে সিঙ্গাপুরের ডাটা সেন্টার সক্ষমতা ১ দশমিক ৪ গিগাওয়াট। অতিরিক্ত এ ৫০০ মেগাওয়াট যুক্ত হলে তা মোট সক্ষমতাকে আরো ৩৫ শতাংশ বাড়াবে। দেশটির ডাটা সেন্টারগুলোয় অতিরিক্ত এ সক্ষমতা কবে নাগাদ যুক্ত করা হবে এবং এর পরিধি আরো বাড়ানো হবে  কিনা সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

পুথুচেরি বলেন, ‘‌শক্তির উৎস পরিবর্তনের ওপর এ সংযোজনের অনেক কিছুই নির্ভর করবে। যে কারণে এটিকে এখনো অনুসন্ধানমূলক প্রক্রিয়া বলা যায়। পদক্ষেপ নেয়ার পর আমরা জানতে পারব এর মাধ্যমে কী সম্ভব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কী করতে পারবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারীরা কতদূর সহায়তা করতে পারবে।’

পরিবেশবান্ধব ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিশ্চিতে সরকার আধুনিক কুলিং সলিউশন এবং সরঞ্জামসহ বিদ্যুৎসাশ্রয়ী সমাধান চাইবে। এছাড়া কম কার্বন নিঃসরণের মাধ্যমে যারা বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে তাদের সঙ্গে চুক্তির বিষয়েও কাজ করবে সরকার। 

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে ডাটা সেন্টার ও এর সক্ষমতা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ২০৫০ সালের মধ্যে শূন্য কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার জন্য সিঙ্গাপুরের যে লক্ষ্যমাত্রা তার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

২০২২ সালে ডাটা সেন্টার নির্মাণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে সিঙ্গাপুর। তবে নতুন সেন্টার স্থাপনে পরিবেশ সুরক্ষা নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশনাও দেয়া হয়। এরপর ২০টির বেশি আবেদন জমা হলেও সিঙ্গাপুর সরকার ৮০ ওয়াটের চারটি ডাটা সেন্টার নির্মাণের অনুমতি দেয়। এ খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে যে চাহিদা রয়েছে, সেটি পূরণে এ সক্ষমতা খুবই কম। 

পুথুচেরি জানান, জমি ক্রয়, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং শ্রমিক পরিচালনায় ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে ডাটা সেন্টার নির্মাণে সিঙ্গাপুর অনেকটাই পিছিয়ে। তবে অনেক বহুজাতিক কোম্পানি এবং অপারেটর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ কম্পিউটিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যে এখানে ডাটা সেন্টার স্থাপনের জন্য কাজ করছে।