ফিশিং স্ক্যাম এখন এমন পর্যায় পৌঁছেছে যে অনেক মানুষ আসল ও প্রতারণামূলক ই-মেইলের মধ্যে পার্থক্য করতে পারছে না। সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ইউবিকোর এক জরিপে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ফিশিং স্ক্যামের শিকার হচ্ছে জেনারেশন জেড বা জেনজি। গত বছর বিশ্বব্যাপী ৬২ শতাংশ জেনজি অন্তত একটি ফিশিং স্ক্যামযুক্ত লিংকে ক্লিক করেছে। খবর টেক রাডার।

ইউবিকোর জরিপ বলছে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪৪ শতাংশ মানুষ ফিশিং ই-মেইলে ক্লিক করেছেন অথবা অ্যাটাচমেন্ট খুলেছেন। জরিপে অংশ নেয়া অর্ধেকের বেশি মানুষ ফিশিং ই-মেইলকে সত্য মনে করেছেন বা এটি ভুল কিনা তা নিশ্চিত হতে পারেননি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আজকের হ্যাকাররা কম্পিউটার বা সিস্টেমের ত্রুটি কাজে লাগানোর থেকে মানুষকে ভুল বোঝানো বা প্রতারণার ওপর বেশি নির্ভর করছে। যদিও তরুণ ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি ফিশিং স্ক্যামের সম্মুখীন হচ্ছে। তবে ইউবিকোর তথ্যানুযায়ী, ভুয়া মেইল চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে পার্থক্য খুব কম লক্ষ করা গেছে।

টেক রাডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিশিং ই-মেইলের কারণে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

ইউবিকোর চিফ ব্র্যান্ড অ্যাডভোকেট রনি মানিং বলেন, ‘আমাদের জরিপে একটি উদ্বেগজন বিষয় উঠে এসেছে। ব্যক্তিরা নিজেদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার ক্ষেত্রে উদাসীন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তাসংক্রান্ত সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি গ্রহণ করতে ধীরগতিতে কাজ করছে।’

তার মতে, অনলাইন অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড পুরোপুরি নিরাপদ নয়, তবুও ব্যক্তিগত ও কাজসংক্রান্ত অ্যাকাউন্টে লগ ইনের সবচেয়ে প্রচলিত উপায় হিসেবে এটি ব্যবহার হচ্ছে।

জরিপে উঠে এসেছে, অর্ধেকেরও কম প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সব অ্যাপ্লিকেশনে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (এমএফএ) চালু করেছে। একই সঙ্গে ৪০ শতাংশ কর্মচারী জানিয়েছেন, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই।

সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত ই-মেইল অ্যাকাউন্ট সাধারণত ব্যাংকিং বা মোবাইল পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় ব্যবহার হয়। তবুও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহারকারী এখনো মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (এমএফএ) ব্যবহার করছে না। এমএফএ হলো অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার জন্য একাধিক স্তরের ‘কি’ বা কোড ব্যবহার করা।

একই সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জাপান ও সুইডেনে এক বছরের ব্যবধানে এআই নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চিন্তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। কারণ সময়ের সঙ্গে সাইবার অপরাধীদের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।

সাইবার আক্রমণের সবচেয়ে পুরনো মাধ্যমগুলোর মধ্যে একটি হলো ফিশিং। এক্ষেত্রে প্রতারকরা অন্য কারো বেশ ধরে যে কাউকে গোপন তথ্য প্রদানে উৎসাহিত অথবা বাধ্য করে। এক কথায় প্রতারণামূলক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আক্রমণকারী ব্যবহারকারীর গোপনীয় তথ্য চুরি করতে চায়।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট মেকইউজঅবের প্রতিবেদন বলছে, ফিশিং ই-মেইলে অনেক সময় এমন লিংক থাকে, যা খোলার মাধ্যমে ব্যক্তির ডিভাইসে ম্যালওয়্যার বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হতে পারে। অথবা এসব ই-মেইল এমনভাবে প্ররোচিত করে যেন ব্যক্তি তার গোপন তথ্য যেমন পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ড নম্বর তাদের দিয়ে দেন।