সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা চালু করেছে তাদের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাপ ‘মেটা এআই’। তবে অ্যাপটি চালুর পর থেকেই গোপনীয়তা নিয়ে দেখা দিয়েছে গুরুতর উদ্বেগ। প্লাটফর্মটিতে অনেক ব্যবহারকারী অজান্তেই তাদের ব্যক্তিগত প্রশ্ন, অডিও ক্লিপ, এমনকি ছবি প্রকাশ করছেন। খবর টেকক্রাঞ্চ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপটিতে ব্যবহারকারীরা চ্যাট করার সময় একটি শেয়ার অপশন দেখতে পান। সেই অপশনে চাপ দিলে একটি পোস্ট প্রিভিউ আসে, যা ব্যবহারকারী চাইলে প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু সমস্যা মূলত এখানেই, অনেকেই না বুঝেই সেই শেয়ার বোতামে চাপ দিয়ে ফেলেন।

এর চেয়েও বিপজ্জনক বিষয় হলো, মেটা এআই অ্যাপে স্পষ্টভাবে কোথাও লেখা নেই যে ব্যবহারকারীর পোস্ট পাবলিক হচ্ছে কিনা। ফলে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করা কোনো ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট যদি পাবলিক থাকে, তাহলে এআই চ্যাটটি সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

ফলে দেখা গেছে, মেটা এআইয়ের এমন সব পোস্ট ইন্টারনেটে ভেসে বেড়াচ্ছে, যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ব্যক্তিগত। যেমন কেউ কর ফাঁকি দেয়ার উপায় জানতে চাচ্ছেন, কেউ পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করছেন, আবার কেউ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা চলাকালীন তার পক্ষে রেফারেন্স চিঠি লিখতে বলছেন, নাম-ঠিকানা সহকারে। নিরাপত্তা গবেষক র‌্যাচেল টোব্যাক জানান, অ্যাপে প্রকাশিত কিছু প্রশ্নে ব্যক্তিগত ঠিকানা ও সংবেদনশীল তথ্য স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তবে মেটা বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মেটা এমন একটি অ্যাপ তৈরি করেছে, যার মূল নকশায়ই গোপনীয়তা রক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা নেই। ২০০৬ সালে আমেরিকান অনলাইন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা এওএলের সার্চ ডাটা ফাঁসের ঘটনা আজও টেক দুনিয়ায় শিক্ষণীয় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।

অ্যাপ বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অ্যাপফিগারস জানিয়েছে, ২৯ এপ্রিল চালু হওয়ার পর থেকে মেটা এআই অ্যাপ এখন পর্যন্ত ডাউনলোড হয়েছে মাত্র ৬৫ লাখ বার। মেটার মতো প্রযুক্তি জায়ান্টের জন্য এটি অনেক কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যত দ্রুত সম্ভব অ্যাপটিতে স্পষ্ট গোপনীয়তা নির্দেশনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু না করলে এটি বড় ধরনের সামাজিক ও আইনগত সমস্যায় পরিণত হবে।