চলতি বছরের শেষ নাগাদ জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নিয়ে আরো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করবে অ্যাপল। অ্যাপলের বার্ষিক শেয়ারহোল্ডার বৈঠকে অ্যাপলের সিইও টিম কুক এ তথ্য জানান। খবর রয়টার্স।
টিম কুক জানান, অ্যাপল জেনারেটিভ এআইয়ের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সম্ভাবনা দেখছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি উৎপাদনশীলতা, সমস্যা সমাধান এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার রূপান্তরমূলক সুযোগ তৈরি করবে। এজন্য অ্যাপল বর্তমানে এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করছে।’
মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো প্রতিযোগীদের তুলনায় অ্যাপল জেনারেটিভ এআই অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। টিম কুক শেয়ারহোল্ডারদের আশ্বস্ত করেছেন, এআই প্রযুক্তি অ্যাপলের পণ্যগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। আগামীতে অ্যাপল এআই প্রযুক্তিকে আরো সম্প্রসারিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া অ্যাপল ডিভাইসে সংরক্ষিত ডাটা সার্চ করার সক্ষমতা বাড়াতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনাও করছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যাপলের বার্ষিক শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে টিম কুক এআই অগ্রগতির জন্য অ্যাপলের তৈরি হার্ডওয়্যারের সক্ষমতা তুলে ধরেন। বিশেষ করে অ্যাপলের নিজস্ব প্রসেসরে পরিচালিত ম্যাক কম্পিউটারের কার্যকারিতা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রকৃত পক্ষে বর্তমানে বাজারে এআইয়ের জন্য ম্যাকের চেয়ে ভালো ও সক্ষম আর কোনো কম্পিউটার নেই।’
এদিকে এআই সক্ষমতা সম্পর্কে অ্যাপলের আত্মবিশ্বাস থাকলেও শেয়ারহোল্ডাররা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নৈতিক নির্দেশিকা নিয়ে বেশকিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৈঠকে অ্যাপলের ব্যবসায় এআই কীভাবে ব্যবহার হয় এবং তাদের পণ্যে কীভাবে নৈতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করার জন্য একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন শেয়ারহোল্ডাররা। প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়েছিল আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার অ্যান্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশনসের (এএফএল-সিআইও) পেনশন ট্রাস্ট পক্ষ থেকে।
আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার অ্যান্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশনসের ডেপুটি ডিরেক্টর ব্র্যান্ডন রিস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অ্যাপল এআই ব্যবহারের বিষয়ে নৈতিক নির্দেশিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে পিছিয়ে।’
ব্র্যান্ডন রিস আরো বলেন ‘আমরা আশা করি অ্যাপলের বিনিয়োগকারী ও অন্য স্টেকহোল্ডারদের কাছে এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ আগামীতে বাড়াবে।’ আসন্ন এপ্রিলে ওয়াল্ট ডিজনির বার্ষিক সভায় একই ধরনের প্রস্তাবের শুনানি হবে।
এএফএল-সিআইও অ্যাপলের কাছে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এআই ব্যবহারের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন চেয়েছিল। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে যেসব নৈতিক নির্দেশিকা রয়েছে তা প্রকাশ করতে বলা হয়েছিল। এ সম্পর্কে এএফএল-সিআইওর গ্রুপটি বেশকিছু উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, কনটেন্ট নির্মাতা ও মালিকদের অনুমতি ছাড়া কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট দিয়ে এআইকে প্রশিক্ষণ দেয়া অ্যাপলের উচিত হবে না। গ্রুপটি কনটেন্ট নির্মাতাদের পারিশ্রমিক দেয়ার পরামর্শ দেয়। অ্যাপল তথ্য প্রকাশে বিরোধিতার কারণ হিসেবে জানায়, এআই ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতার কারণে তারা এ মুহূর্তে কোনো তথ্য প্রকাশ করতে রাজি নয়।
সম্প্রতি অ্যাপেল স্বচালিত ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরির প্রকল্প বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ প্রকল্পটিতে কর্মরত দুই হাজার কর্মীকে এখন আইফোনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিভাগে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।










