বর্তমানে বৈশ্বিক পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, প্রযুক্তি কোম্পানি কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে ঝুঁকছে। চিপ উৎপাদনকারীদের মধ্যে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) অন্যতম। ২০৪০ সালের মধ্যে কোম্পানিটি শতভাগ নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার ও শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
গিজচায়নায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সুরক্ষা দিবসের প্রাক্কালে সংস্থাটি এ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। টিএসএমসি জানায়, কোম্পানিটি আরই১০০ সাসটেইনেবিলিটি প্রক্রিয়াকে আরো ত্বরান্বিত করবে। এটি একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ। যেখানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানি শতভাগ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে একমত।
লক্ষ্যমাত্রা পূরণে টিএসএমসি পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে কোম্পানির উৎপাদন ও কার্যক্রম পরিচালনায় নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের হার ৪০ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, এটি সাসটেইনেবল ব্লুপ্রিন্ট কার্যকর করবে। যার মাধ্যমে ২০২৫ সাল থেকে কার্বন নিঃসরণের হার শূন্যে নামিয়ে আনার যাত্রা শুরু হবে। কোম্পানি জানায়, ২০৩০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণের হার ২০২০-এর পর্যায়ে নেমে আসবে। এছাড়া কোম্পানি প্রতি বছর সফলতার হার মূল্যায়ন করবে বলে সূত্রে জানা গেছে। এগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে শূন্য কার্বন নিঃসরণের চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে।
২০২০ সালের জুলাইয়ে আরই১০০ উদ্যোগে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয় টিএসএমসি। এর মাধ্যমে প্রথম সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারী কোম্পানি হিসেবে এ উদ্যোগে অংশ নেয়ার খেতাবও পায়। সে সময় কোম্পানিটি ২০৫০ সালের মধ্যে শতভাগ নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময় আরো ১০ বছর কমিয়েছে প্রযুক্তি কোম্পানিটি।
নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে টিএসএমসি বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রমে সরাসরি কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয় রয়েছে। এছাড়া নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, কার্বন ক্রেডিটও করপোরেট পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (সিপিপিএএস) নিয়ন্ত্রণ করবে। কোম্পানিটি এরই মধ্যে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের জন্য একাধিক সিপিপিএএস চুক্তি করেছে। এর মধ্যে অরস্টেড ও একটি সোলার পাওয়ার কোম্পানির সঙ্গে ২০ বছরের আলাদা চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় যথাক্রমে ৯২০ মেগাওয়াট বায়ু ও ৯২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেনা হবে। এসব চুক্তি টিএসএমসির কার্বন নিঃসরণ কমাতে ও পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবহারে সহায়তা করবে।
২০৪০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে টিএসএমসি বেশকিছু সমস্যার সম্মুখীন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এনার্জি ইনটেনসিভ অপারেশন: টিএসএমসির কার্যক্রম এনার্জি ইনটেনসিভ। অর্থাৎ কারখানার কার্যক্রম পরিচালনায় কোম্পানিটির অনেক বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। নবায়নযোগ্য শক্তি এ চাহিদা পূরণ করতে পারবে কিনা সেটিই দেখার বিষয়।
নবায়নযোগ্য শক্তির সীমিত উৎস বা সরবরাহ: নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হলেও টিএসএমসির কাছে পর্যাপ্ত উৎস নেই। যে কারণে কোম্পানিটিকে হয়তো অন্য দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হতে পারে।
সরবরাহকারীদের কার্বন নিঃসরণ: টিএসএমসিকে যারা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে তারা ২৪ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ করে। আর এ থেকে বের হওয়ার জন্য কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে সরবরাহকারীদের ১ হাজার ৫০০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
প্রতিযোগীদের চাপ: ইন্টেল ও স্যামসাংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানও নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করবে। যে কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে টিএসএমসি চাপের মুখে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।










