সাইবার হামলার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিতে ব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ডার্ক ওয়েবে সেসব অ্যাকাউন্ট বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন নিরাপত্তা গবেষকরা। খবর ইনডিপেনডেন্ট।
সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ফ্লেয়ারের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ওপেনএআইয়ের তৈরি চ্যাটবটটির দুই লাখের বেশি লগইন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে ডার্ক ওয়েবে। চুরি যাওয়া এসব তথ্য হাতে পেলে অপরাধীরা বিনামূল্যে চ্যাটজিপিটির প্রিমিয়াম সংস্করণ ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
ওপেনএআই এর আগেও নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাফাই গেয়েছে। অনলাইনে ব্যবহারকারীদের কিছু লগইনসংশ্লিষ্ট তথ্য ফাঁস হওয়ার পর গত মাসে কোম্পানির এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, চ্যাটজিপিটি সেবায় ব্যবহারকারীর লগইনের ক্ষেত্রে সেরা পদ্ধতিগুলোই ব্যবহার করে ওপেনএআই।
বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, ব্যবহারকারীকে শক্তিশালী পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ভেরিফাই করার বিশ্বাসযোগ্য সফটওয়্যার ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়। অপরাধবিষয়ক বিভিন্ন ফোরামে চ্যাটজিপিটির মতো চ্যাটবট নিয়ে যখন তুমুল আগ্রহ চলছে, তখনই ডার্ক ওয়েবে ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এল।
মার্চে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডার্ক ওয়েবে চ্যাটজিপিটি সংশ্লিষ্ট নতুন পোস্টের মাত্রা প্রায় সাত গুণ বেড়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি নর্ডভিপিএন চ্যাটজিপিটির ফাঁস হওয়া তথ্যকে ব্যাখ্যা করেছে ডার্ক ওয়েবের সবচেয়ে চমকপ্রদ আলোচনার বিষয় হিসেবে। যেখানে সাইবার অপরাধীরা এ প্রযুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
ডার্ক ওয়েবে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে কীভাবে চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে ম্যালওয়্যার বানানো যায়। আর বিভিন্ন সাইবার আক্রমণ চালানোর উদ্দেশ্যে কীভাবে এই এআই টুলকে হ্যাক করা যায়। চলতি মাসের শুরুতে ওয়ার্মজিপিটি নামে পরিচিত একটি এআই টুল চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা, যা দেখতে অনেকটা চ্যাটজিপিটির মতোই। নতুন এ চ্যাটবটকে ব্যাখ্যা করা হয় চ্যাটজিপিটির শয়তান জমজ ভাই হিসেবে। এর মাধ্যমে এমন সাইবার আক্রমণ চালানোর ঝুঁকি রয়েছে, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি অ্যাসেটের পরামর্শক জেক মুর ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, ‘চ্যাটবটের ক্ষতিকর ব্যবহার সীমিত করার লক্ষ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে চ্যাটজিপিটি। তবে কোনো প্রতিযোগী প্লাটফর্ম শিগগিরই অসৎ উদ্দেশ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, সেটা অনিবার্য।’
তিনি আরো বলেন, ‘এআই টুল কোনো কাজের জন্য সহায়ক শক্তিশালী টুল তৈরি করে। তবে বর্তমানে আমাদের চিন্তার বিষয় পরের ধাপ নিয়ে। কেননা প্রযুক্তিটির অপব্যবহার শঙ্কা এ খাতে কালো মেঘ তৈরি করছে।’










