চলতি বছর বিশ্বে ১৮০ জেটাবাইটের (১ বিলিয়ন টেরাবাইটে ১ জেটাবাইট) বেশি ডিজিটাল ডাটা উৎপন্ন হবে। এ সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ২৩ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম, বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ও শেয়ার হওয়া তথ্যই ডিজিটাল ডাটা। সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল প্লাটফর্ম, অনলাইন ভিডিও, ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ই-কমার্সের প্রসারের কারণে ডাটার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে কোটি কোটি নতুন ডিজিটাল ডাটা। আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে ডিজিটাল তথ্যভান্ডার।

গবেষণা বলছে, বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে আরো উন্নত তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও এআইনির্ভর ডাটা ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়াতে শুরু করেছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৯৭ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠান বড় আকারের তথ্য বা ‘বিগ ডাটা’ সংগ্রহের প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্লাউড স্টোরেজ, বিগ ডাটা প্লাটফর্ম, এআই ও মেশিন লার্নিং টুল, কাস্টমার ডাটা প্লাটফর্ম ইত্যাদি। তবে এসব তথ্য থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কার্যকরভাবে বিশ্লেষণ করছে কেবল ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যানুযায়ী, বিশ্বের প্রায় সব প্রতিষ্ঠান এখন গ্রাহকের আচরণ, বিক্রির তথ্য, ওয়েবসাইটে কে কী দেখছে এমন সব ডাটা সংগ্রহ করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো এসব তথ্য অনেক প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারছে না। অর্থাৎ বিগ ডাটা সংগ্রহে আগ্রহ বাড়লেও তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা অনেক প্রতিষ্ঠানেরই এখনো সীমিত। অথচ বাজারে ডাটা বিশ্লেষণ প্রযুক্তির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিগ ডাটা অ্যানালিটিকস বাজারের মূল্য ছিল প্রায় ৩৪ হাজার ৮২১ কোটি ডলার, যা ২০৩২ সালের মধ্যে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৯২ হাজার ৪৩৯ কোটি ডলারে। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান তথ্য বিশ্লেষণে দক্ষ, তারা প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে এবং বাকিরা পিছিয়ে পড়বে।

ডিমান্ডসেইজের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ডিজিটাল তথ্য তৈরি হচ্ছে সাধারণ ব্যবহারকারীদের হাতেই। যেমন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ভিডিও, ই-মেইল, ছবি, মেসেজ ইত্যাদি। তবে এ বিপুল তথ্যের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই অবিন্যস্ত অবস্থায় আছে, যেগুলো সহজে বিশ্লেষণ করা প্রায় অসম্ভব। উন্নত প্রযুক্তি ছাড়া এসব তথ্য থেকে সিদ্ধান্ত বের করা কঠিন। এছাড়া বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার ইন্টারনেট-সংযুক্ত ডিভাইস (আইওটি) সচল রয়েছে, যেগুলো প্রতিনিয়ত তথ্য তৈরি করছে। যেমন ফিটনেস ট্র্যাকার, স্মার্ট হোম ডিভাইস, গাড়ির সেন্সর সবই এর অন্তর্ভুক্ত।

বিশাল ডাটা-প্রবাহ কার্যকরভাবে ব্যবহারের বড় উদাহরণ নেটফ্লিক্স। জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্লাটফর্মটি ডাটাভিত্তিক প্রযুক্তি (অ্যালগরিদম) ব্যবহার করে বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলার সাশ্রয় করতে পারছে। এর মাধ্যমে কোন গ্রাহক কোন ধরনের সিনেমা বা সিরিজ পছন্দ করে তা বুঝে নেয় এবং সে অনুযায়ী কনটেন্ট সাজিয়ে দেখায় নেটফ্লিক্স। একই সঙ্গে সার্ভার ও সিস্টেম আরো দক্ষভাবে চালানো যায়।

এক্সপ্লোডিং টপিকসের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ডাটা ট্রাফিকের ৫৩ দশমিক ৭২ শতাংশের বেশি এখন ভিডিও কনটেন্টের দখলে। সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোয় ভিডিওই এখন প্রধান মাধ্যম। সম্পূর্ণ ভিডিওভিত্তিক অ্যাপ টিকটক প্রতি বছরই ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়াচ্ছে। ফেসবুকেও বর্তমানে শেয়ার হওয়া কনটেন্টের ৫১ শতাংশই ভিডিও। এছাড়া ইউটিউবে ৪৮০পি রেজল্যুশনে ভিডিও দেখলে প্রতি ঘণ্টায় ৫০০ মেগাবাইটের বেশি ডাটা খরচ হয়।