টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অ্যান্টিট্রাস্ট তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)। তদন্তের আওতায় থাকবে প্রতিষ্ঠানটির সফটওয়্যার লাইসেন্সিং ও ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবসার সম্ভাব্য প্রতিযোগিতা বিরোধী অনুশীলন। বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রডাক্টিভিটি সফটওয়্যার বাজারে মাইক্রোসফটের সম্ভাব্য ক্ষমতার অপব্যবহার যাচাই করে দেখছে এফটিসি। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের নিজস্ব ক্লাউড পরিষেবা অ্যাজুর থেকে অন্যান্য কোম্পানির ক্লাউড পরিষেবায় ডাটা স্থানান্তর বন্ধ করতে অন্যায্য লাইসেন্সিং শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে কয়েকটি সূত্র এ বিষয় নিশ্চিত করে। বুধবার সূত্র জানিয়েছে, এফটিসি সাইবার সিকিউরিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পণ্য সম্পর্কিত মাইক্রোসফটের বাজার অনুশীলনও খতিয়ে দেখছে।

মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রভাব কতটা পড়বে তা নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। তদন্ত কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন এফটিসির বর্তমান চেয়ারম্যান লিনা খান। তিনি খুব সম্ভবত আগামী জানুয়ারিতে পদ ছাড়ছেন। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন খুব স্বাভাবিকভাবে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে একজন রিপাবলিকান পার্টির সমর্থককেই নিয়োগ দেবেন বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। যিনি ব্যবসার ক্ষেত্রে তুলনামূলক উদার নীতি দেখিয়ে থাকতে পারেন। এতে তদন্তের কঠোরতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে।

ক্লাউড পরিষেবায় মাইক্রোসফটের প্রতিযোগীরা সমালোচনা করে বলেছে, অ্যাজুর ক্লাউড পরিষেবার গ্রাহকের অন্য পরিষেবায় যাওয়া কঠিন হয় সে রকম পরিবেশ তৈরি করেছে মাইক্রোসফট। গত বছর ক্লাউড কম্পিউটিং বাজার পরীক্ষা করার সময় এ জাতীয় অভিযোগ দায়ের করেছিল এফটিসি।

অ্যামাজন ও গুগলসহ বিভিন্ন অনলাইন কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করে লবিং গ্রুপ নেটচয়েস। তারা মাইক্রোসফটের লাইসেন্সিং নীতি এবং অফিস ও আউটলুকের মতো সফটওয়্যারে এআই টুল সন্নিবেশিত করার উপায় নিয়ে সমালোচনা করেছে। গ্রুপটি বলেছে, ‘মাইক্রোসফট বিশ্বের সবচেয়ে বড় সফটওয়্যার কোম্পানি। তারা প্রডাক্টিভিটি ও অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যারের বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে। এর সফটওয়্যার লাইসেন্সিং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের বাজারে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।’

গত সেপ্টেম্বরে মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে অন্যায্য ক্লাউড চর্চার অভিযোগ এনে ইউরোপিয়ান কমিশনে অভিযোগ দায়ের করে গুগল। টেক জায়ান্টটির দাবি, মাইক্রোসফটের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মালিকানাধীন ক্লাউড প্লাটফর্মে উইন্ডোজ সার্ভার ব্যবহার চালিয়ে যেতে গ্রাহকের ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য করছে প্রতিষ্ঠানটি।