চলতি বছর বৈশ্বিক ভিডিও গেমসের বাজারে প্রবৃদ্ধির হার ২০২৪ সালের তুলনায় সামান্য বাড়বে বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউজু। রকস্টারের বহুল প্রতীক্ষিত ‘গ্র্যান্ড থেফট অটো সিক্স’ গেমের সম্ভাব্য মুক্তির তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক ভিডিও গেমসের বাজার ধীরগতিতে বাড়ছে ধারণা করছে সংস্থাটি। খবর রয়টার্স।

বিশ্লেষক ও শিল্প বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা ছিল জিটিএ সিক্সের সম্ভাব্য মুক্তি এবং নতুন গেম কনসোল বাজারে আসার ফলে ২০২৫ সালে ভিডিও গেমস শিল্প প্রবৃদ্ধি দেখবে। তবে গেমটির প্রকাশ আগামী বছরে পিছিয়ে যাওয়া এবং শুল্কজনিত কারণে হার্ডওয়্যারের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের ব্যয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নিউজুর প্রতিবেদন বলছে, বৈশ্বিক ভিডিও গেমসের বাজার ২০২৫ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৮ হাজার ৮৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে, যা আগের বছরের ৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় সামান্য বেশি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিশ্লেষক মিশেল বুইজম্যান বলেন, ‘এ পূর্বাভাসে হার্ডওয়্যারের পরিবর্তন, দামের ধারা, ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও আসন্ন সব গেমসের বিষয়বস্তু বিবেচনা করা হয়েছে।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বাজারটি ২০২৭ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হারে সম্প্রসারিত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে নিউজু, যা আগের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ পূর্বাভাসের তু=লনায় কিছুটা কম।

জিটিএ সিক্স মুক্তির মাধ্যমে আগামী বছর থেকে ভিডিও গেমস শিল্পে বিক্রি বৃদ্ধি শুরু হবে বলে ধারণা করছেন গেমসংশ্লিষ্টরা। এতে ক্যাপকমের ‘রেসিডেন্ট ইভিল রিকুয়েম’-এর মতো অন্যান্য প্রিমিয়াম গেমের মুক্তিও ভূমিকা রাখবে। এছাড়া জিটিএ সিক্সের পিসি সংস্করণ বাজারে এলে ২০২৭ সাল পর্যন্ত এ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইক্রোসফটের এক্সবক্স ও সনির প্লেস্টেশনের দামে ঊর্ধ্বগতি বিশ্বজুড়ে ক্রেতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে হার্ডওয়্যার বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে সম্প্রতি নিনতেন্দোর ‘সুইচ ২’ কনসোলের বিক্রি কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। এ কনসোল প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বিক্রীত ডিভাইস হয়ে উঠেছে।

নিউজুর বিশ্লেষক বুইজম্যান জানান, এক্সবক্স বর্তমানে আগের মডেল এক্সবক্স ওয়ানের তুলনায় বেশ পিছিয়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে কিছু বিক্রি বাড়লেও তা উল্লেখযোগ্য হারে হবে না বলেই ধারণা তার।