বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত হলেও সাইবার হুমকি কমছে না, বরং বাড়ছে আরো জটিল আকারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর সাইবার হামলা দ্রুত সম্প্রসারণ হলেও বিশ্বের অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠান এখনো এ ধরনের হুমকি প্রতিরোধে আলাদা কোনো কৌশল তৈরি করেনি। এমনটাই উঠে এসেছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান মাইমকাস্টের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে। খবর টেকমনিটর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মনে করে তাদের বর্তমান সাইবার নিরাপত্তা কৌশল ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করছে। তবে এর বিপরীত চিত্রও উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সাইবার হামলার ধরন বদলে গেছে এবং এগুলো আরো উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। বিশেষ করে এআই ব্যবহার করে চালানো হামলা ও অভ্যন্তরীণ হুমকি এখন প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১ হাজার ১০০ আইটি নিরাপত্তাবিষয়ক পেশাজীবীর ওপর পরিচালিত এক বৈশ্বিক জরিপের ভিত্তিতে প্রকাশ হয়েছে সংস্থাটির সর্বশেষ রিপোর্ট ‘স্টেট অব হিউম্যান রিস্ক’। সেখানে দেখা গেছে, ৫৫ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠানে এআই-ভিত্তিক সাইবার আক্রমণ মোকাবেলায় কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই।
সমীক্ষা অনুযায়ী, ৯৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইবার নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণের ফলে তাদের ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা বেড়েছে। এসব কৌশল সাইবার হামলা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে একই সঙ্গে এআই-নির্ভর সাইবার হুমকির ধরন আরো জটিল হয়ে উঠছে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
মাইমকাস্টের হিউম্যান রিস্ক স্ট্র্যাটেজি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাশা সেডোভা জানান, সাইবার হুমকি যত জটিলই হোক, অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো শুধু আলাদা আলাদা প্রযুক্তি ব্যবহার করেই সমস্যার সমাধান করছে, যা তার মতে যথেষ্ট নয়।
তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো আজ বাড়তি অভ্যন্তরীণ হুমকি ও উন্নত এআই-ভিত্তিক হামলার মতো জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। কিন্তু তারা এখনো সমস্যা সমাধানে শুধু ‘পয়েন্ট সলিউশন’ অর্থাৎ আলাদা আলাদা প্রযুক্তি বা টুল দিয়ে কাজ চালাতে চায়। প্রতিষ্ঠানগুলো একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত না থেকে বা একে অন্যের সঙ্গে সমন্বিত না হয়ে বিভিন্ন প্রযুক্তি বা সরঞ্জাম ব্যবহার করছে।’ সেডোভা আরো জানান, অনেক প্রতিষ্ঠানে আইটি ও সাইবার নিরাপত্তা টিম পর্যাপ্ত জনবল পাচ্ছে না, অন্যদিকে সাইবার হুমকিও কমছে না। এমন পরিস্থিতিতে শুধু প্রযুক্তি দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
তার মতে, এখন সময় এসেছে একটি ‘হিউম্যান-সেন্ট্রিক প্লাটফর্ম’ বা মানবকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণের। যেখানে কর্মী ও প্রযুক্তির মধ্যে সংযোগ তৈরি করে একটি সমন্বিত সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেতে পারে।
মাইমকাস্টের নতুন প্রতিবেদনে আরো জানা গেছে, ৯৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বর্তমানে সাইবার হুমকি শনাক্তকরণ, সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি বিশ্লেষণে এআই ব্যবহার করছে। তবে জেনারেটিভ এআই টুলের মাধ্যমে তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন ৮১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।
এদিকে কানেকটিকাটভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টনার প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, দুই বছরের মধ্যে এআই-সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের ৪০ শতাংশের বেশি ঘটবে বিভিন্ন দেশে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির ভুল বা নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের কারণে।
গার্টনারের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশ্লেষক জোয়ার্গ ফ্রিটস বলেছেন, বিশ্বজুড়ে একক কোনো নিয়ম বা আইন নেই, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও আইনি দিক সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম চালানো কোম্পানিগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম মানতে হয়।










