নেচার বা প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি তোলার ক্ষেত্রে অনেকেই ভাবেন, ভালো ফলাফল পেতে দামি ক্যামেরা আর লেন্সই সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু বাস্তবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান ও বিষয়বস্তুকে ভালোভাবে বোঝা। এক্ষেত্রে কিছু মোবাইল অ্যাপ হতে পারে সহযোগী টুল। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট মেকইউজঅব অবলম্বনে নেচার ফটোগ্রাফিকে আরো নিখুঁত করতে পাঁচটি ফ্রি মোবাইল অ্যাপ সম্পর্কে তুলে ধরা হলো—

সিক: অ্যাপটির মাধ্যমে যেকোনো গাছ, পাখি বা প্রাণী সহজেই শনাক্ত করা যায়। ছবি তুললেই এটি সে জীব বা উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম, শ্রেণী, পরিবার, বিস্তৃতি ও ঋতুভিত্তিক উপস্থিতির মতো তথ্য দেখায়। যারা ম্যাক্রো বা বন্যপ্রাণীর ছবি তোলেন, তাদের জন্য এটি বেশ উপকারী। এছাড়া সিক অ্যাপে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও ব্যাজ থাকায় ছবি তোলার পাশাপাশি শেখার আগ্রহও বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

মার্লিন বার্ড আইডি: পাখির ছবি তুলতে গিয়ে অনেকেই বুঝতে পারেন না আশপাশে কী ধরনের পাখি আছে। মার্লিন বার্ড আইডি অ্যাপটি পাখির ডাক শুনেই সে পাখি শনাক্ত করতে পারে। শুধু অ্যাপটি চালু রাখলেই হবে—পাখির ডাক শোনামাত্রই অ্যাপে সে পাখির নাম দেখা যাবে। এভাবে ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে শুধু ডাক শুনেই পাখি চেনা সম্ভব। অ্যাপটি পাখির অবস্থান, ঋতুভিত্তিক উপস্থিতি ও বিরলতা সম্পর্কেও তথ্য দেয়।

অলট্রেইলস: ছবি তুলতে গিয়ে অনেক সময় ফটোগ্রাফাররা দল থেকে আলাদা হয়ে পড়েন। অলট্রেইলস অ্যাপটি মানচিত্রের মাধ্যমে হাঁটার পথ বা ট্রেইল দেখায়, যাতে কেউ পথ হারিয়ে না ফেলেন। অ্যাপটির সাহায্যে আগে থেকেই ট্রেইল দেখে নেয়া, নিজের অবস্থান জানা ও সঠিক পথে চলা সহজ হয়ে যায়। প্রিমিয়াম সংস্করণে অফলাইন ম্যাপ ডাউনলোড করা গেলেও ফ্রি ভার্সনেই সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা রয়েছে।

ইবার্ড: ইবার্ড একটি সিটিজেন সায়েন্স অ্যাপ, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজের দেখা পাখির তালিকা যোগ করতে পারেন। অ্যাপটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিচার হলো ‘রেয়ার বার্ড অ্যালার্ট’, যা আশপাশে কোনো বিরল পাখি দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেয়। ফলে আগ্রহীরা দ্রুত গিয়ে সে পাখির ছবি তুলতে পারেন। কেউ কেউ এ ফিচার প্রতিযোগিতার মতো ব্যবহার করলেও অনেকেই এটিকে জ্ঞান বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখেন।

আইন্যাচারালিস্ট: অ্যাপটিকে অনেকেই সবচেয়ে কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য প্রকৃতিভিত্তিক অ্যাপ হিসেবে মনে করেন। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গাছ, প্রাণী বা পোকামাকড় শনাক্ত করে ও শতাংশে শনাক্তকরণে সঠিকতার হার দেখায়। এ অ্যাপে কমিউনিটি ফিচার রয়েছে, যেখানে অন্যান্য ব্যবহারকারী কারো শনাক্ত করা প্রাণী বা উদ্ভিদ সম্পর্কে মন্তব্য, সংশোধন বা ব্যাখ্যা দিতে পারেন। ফলে যদি অ্যাপের শনাক্তকরণে ভুল হয়, তাহলে কমিউনিটির সাহায্যে তা ঠিক করা যায়। ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ বা তালিকা সংরক্ষণ করার সুযোগ থাকায় যে প্রাণী বা গাছপালা দেখা হয়েছে, সেগুলো আলাদা করে রাখা যায়। এছাড়া নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক অনুসন্ধান চালানোও যায়, যেমন কোন এলাকায় কী ধরনের প্রাণী বা গাছ বেশি দেখা যায়। আইন্যাচারালিস্টে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ বা প্রকৃতিসংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ নেয়ার সুযোগও আছে, যা শেখার পাশাপাশি আগ্রহও বাড়ায়।

সবশেষে বলা যায়, দামি ক্যামেরা ছবি নিখুঁত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে প্রকৃতিকে ভালোভাবে জানা একজন নেচার ফটোগ্রাফারের সবচেয়ে বড় শক্তি। সে যাত্রায় এ ধরনের ফ্রি মোবাইল অ্যাপ হতে পারে দারুণ সহযাত্রী।