উড়োজাহাজে স্টারলিংকের ইন্টারনেট অন্যান্য যেকোনো ইন-ফ্লাইট (বিমানে ব্যবহৃত) পরিষেবার তুলনায় অনেক দ্রুত ও প্রতিক্রিয়াশীল। ইন্টারনেট গতি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান উকলার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর সিনেট।
উকলার তথ্যানুযায়ী, স্টারলিংকের মাধ্যমে উড়োজাহাজে গড় ডাউনলোডের গতি ১৫২ এমবিপিএস ও আপলোড ২৪ এমবিপিএস রেকর্ড হয়েছে।
উড্ডয়নরত বিমানে ইন্টারনেট ব্যবহারে স্টারলিংক প্রায় দ্বিগুণ ডাউনলোড ও আপলোড স্পিড দেয়ার পাশাপাশি, ল্যাটেন্সি বা ডাটা প্রতিক্রিয়ার (ক্লিক, মেসেজ পাঠানো ও ভিডিও চালানোর ডাটা সার্ভারে পৌঁছানো এবং সাড়া আসার সময়) গতিতেও অন্য সব সেবাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট-ভিত্তিক এ সেবার ইন ফ্লাইট ল্যাটেন্সি ছিল মাত্র ৪৪ মিলিসেকেন্ড, যেখানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এমটিএন স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনসের ল্যাটেন্সি ৬৬৭ মিলিসেকেন্ড। কম ল্যাটেন্সির মানে হলো, যেকোনো নির্দেশ বা ক্লিকে দ্রুত সাড়া পাওয়া। ফলে স্টারলিংক সজ্জিত বিমানে বসেই অনলাইন গেম খেলা বা ভিডিও কল করা সহজ ও বাস্তবসম্ভব হয়ে উঠেছে।
স্পেসএক্সের তথ্যানুযায়ী, ইলোন মাস্কের ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিংকের নিজস্ব ৭ হাজারটি লো-আর্থ অরবিট (এলইও) উপগ্রহ আছে। এগুলো ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩৪২ মাইল ওপরে কাজ করে। অন্যদিকে হিউজনেট বা ভিয়াসেটের মতো অন্যান্য ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ২২ হাজার মাইল উচ্চতায় জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে, যা ডাটা আদান-প্রদানে অনেক বেশি বিলম্ব বা ল্যাটেন্সি সৃষ্টি করে।
উকলা প্রতিবেদনের লেখক কেরি বেকার বলেন, ‘এটা পদার্থবিজ্ঞানের খুব সহজ হিসাব। ২২ হাজার মাইল দূরের তুলনায় ৩০০ মাইল দূরে থাকা উপগ্রহ থেকে অবশ্যই অনেক দ্রুত সাড়া পাওয়া যাবে।’
আরো কিছু তথ্য উঠে এসেছে উকলার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) স্পিড টেস্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে স্টারলিংকের গ্রাহকরা পৃথিবীপৃষ্ঠে বসে গড়ে ১০৫ এমবিপিএস ডাউনলোড স্পিড, ১৫ এমবিপিএস আপলোড স্পিড এবং ৪৫ মিলিসেকেন্ড ল্যাটেন্সি পাচ্ছে। কিন্তু এর তুলনায় স্টারলিংকের ইন-ফ্লাইট ইন্টারনেট স্পিড ছিল আরো বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভূমি নয় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্টারলিংক শূন্যেও শক্তিশালী ও কার্যকর সংযোগ দিতে সক্ষম হচ্ছে। এটি স্যাটেলাইট-নির্ভর ইন্টারনেট প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত বলে মনে করেন তারা।










