অনেক প্রতিষ্ঠান এখন কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহার করছে। তবে হার্ভার্ডের নতুন একটি গবেষণা বলছে, এ প্রযুক্তি প্রত্যাশিত সুবিধা দিচ্ছে না। গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ওয়ার্কস্লপ’ নামের একটি নতুন প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। এটি এমন এআই-উৎপন্ন কাজকে বোঝায়, যা দেখলে পরিসমাপ্ত কাজ মনে হলেও বাস্তবে এটি সহকর্মীদের জন্য আরো কাজ বাড়ায়। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ, স্ট্যানফোর্ড সোশ্যাল মিডিয়া ল্যাব এবং বেটারআপ ল্যাবসের যৌথ গবেষণায় ‘ওয়ার্কস্লপ’কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এটি এমন এআই-উৎপন্ন কাজ, যা সম্পূর্ণ বা সুশৃঙ্খল মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে কোনো কাজের অগ্রগতি ঘটায় না।
কর্মীরা প্রায়ই এআই ব্যবহার করে সুন্দরভাবে ফরম্যাট করা স্লাইড, প্রতিবেদন (রিপোর্ট) বা সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ তৈরি করেন। কিন্তু এসব কনটেন্টে প্রায়ই অসম্পূর্ণ, অপ্রয়োজনীয় বা প্রকল্পের প্রাসঙ্গিক তথ্যের অভাব দেখা যায়। ফলে কাজটি সংশোধন বা পুনরায় করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। এতে সহকর্মী বা ব্যবস্থাপকের ওপর কাজের চাপ বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ১৫০ জন পূর্ণকালীন কর্মী নিয়ে পরিচালিত এ জরিপ অনুযায়ী, গত এক মাসে ৪০ শতাংশ কর্মীকে ওয়ার্কস্লপ মোকাবেলা করতে হয়েছে। আর সংশ্লিষ্ট কনটেন্টগুলোর ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ কাজে লাগানো গেছে। প্রায় ১৮ শতাংশ ব্যবস্থাপকও রিপোর্টের আকারে ওয়ার্কস্লপ পেয়েছেন।
প্রতিবার ওয়ার্কস্লপ সংশোধন করতে গড়ে কর্মীরা প্রায় ২ ঘণ্টা সময় ব্যয় করছেন, যা কোম্পানির জন্য গোপন খরচ ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যদি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই ব্যবহারের জন্য সঠিক নির্দেশিকা ও প্রশিক্ষণ না দেয়, তাহলে প্রযুক্তি দ্বারা উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুবিধার চেয়ে খারাপ কাজ সংশোধনের পরোক্ষ খরচ বেশি হতে পারে। এআইকে কৌশলগতভাবে ও পর্যবেক্ষণসহ ব্যবহার করা প্রয়োজন, যাতে এটি কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, সমস্যা নয়।










