কভিড-১৯ মহামারী পরবর্তী সময়ে চীন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বেশ এগিয়েছিল। কিন্তু এরপর ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে দেশটির অর্থনীতি আবারো থমকে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের কারণে প্রযুক্তি খাতেও পিছিয়ে পড়ে চীন। তবে এর মধ্যেও বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে ভার্চুয়াল (ভিআর) ও অগমেন্টেড রিয়ালিটির (এআর) বাজার প্রবৃদ্ধি দেখতে পেয়েছে। সম্প্রতি রুন্টো টেকনোলজি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর টেকটাইমস ও গিজমোচায়না।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশটি ১ লাখ ৭৮ হাজার ইউনিট এআর ও ভিআর ডিভাইস বিক্রি করেছে। যদিও তা আগের বছরের তুলনায় ৫১ দশমিক ২ শতাংশ কম। তবে দুটি আলাদা প্রযুক্তি পণ্য এ খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা।

দেশটিতে অনলাইনে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ডিভাইসের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বছরওয়ারি হিসেবে যা ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ কম। বিক্রি কমার পেছনে কারণগুলোও অনুমেয়। পাশাপাশি গ্রাহকদের পছন্দের ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিষয়ও বিক্রি কমাতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে সূত্রে জানা গেছে। ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ডিভাইসের বিক্রি কমলেও এআর ডিভাইসের বাজার ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বছরওয়ারি হিসেবে ২০২৩-এ বিক্রি ২৫৮ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া সামগ্রিকভাবে এআর/ভিআরের বাজারে এআর ডিভাইসের বাজার হিস্যা ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। মূলত এআর ডিভাইসের গড় মূল্য কমানোয় বিক্রি বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ডিভাইসগুলোর গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ২ হাজার ৮২৮ ইউয়ান।

চীনে অগমেন্টেড রিয়ালিটির অনলাইন বাজারের শীর্ষে রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো রেবার্ড ইনোভেশন, এক্সরিয়েল ও রোকিড। তিনটি কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ৯০ দশমিক ২ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। সিআর৩ ইনডেস্কের তথ্যানুযায়ী এটি জানা গেছে। রেবার্ড ইনোভেশনের হিস্যা ৩৯ দশমিক ১, এক্সরিয়েলের ৩২ দশমিক ২ এবং রোকিডের ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

ভিআর ও এআর ডিভাইসের মধ্যে বড় পার্থক্য হচ্ছে গ্রাহকদের আগ্রহ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে। ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ডিভাইসের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা কমতে থাকলেও বাস্তব দুনিয়ার সঙ্গে ভার্চুয়াল উপাদান মেলাতে এআর ডিভাইসের যে সক্ষমতা তা জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এআর ডিভাইসে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে এবং ফিচার রয়েছে।

অন্যদিকে কুপারটিনোর প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল সম্প্রতি বাজারে নিজস্ব অগমেন্টেড রিয়ালিটি ডিভাইস ভিশন প্রো উন্মোচন করেছে। যদিও ডিভাইসটি এখনো সবার ব্যবহারের জন্য বাজারজাত শুরু হয়নি। ২০২৪ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এ ডিভাইসটির বিক্রি শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে এটি এআর খাতে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করেছে। ভিশন প্রো হেডসেটে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহারের সুবিধা দিতে ডেভেলপারদের জন্য কিটও চালু করেছে অ্যাপল।

২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য পূর্বাভাসও দিয়েছে রুন্টো। সংস্থাটির ধারণা, যদি এ অবস্থা চলমান থাকে তাহলে চীনে গ্রাহক পর্যায়ের এআর ডিভাইসের বাজার দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। এ সময়ের মধ্যে সব চ্যানেলে বার্ষিক বিক্রির সংখ্যা দুই-আড়াই লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে। বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধির দিক থেকে এর হার ১০০ থেকে ১৫০ শতাংশের মধ্যে থাকবে।