বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাতের প্রায় সব কর্মী কাজের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন বলে জানিয়েছে টেক জায়ান্ট গুগল। বিশেষ করে কোড লেখা, সম্পাদনা বা পরিবর্তনের মতো কাজগুলোয় এআইয়ের ওপর নির্ভর করছেন তারা। খবর সিএনএন।
গুগলের ডোরা গবেষণা বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে পাঁচ হাজার প্রযুক্তি পেশাজীবীর মধ্যে ৯০ শতাংশ তাদের কাজের জন্য এআই প্রযুক্তি-নির্ভর হয়ে উঠেছেন, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি।
গবেষণার ফল এমন এক সময়ে এসেছে যখন চাকরি ও অর্থনীতিতে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা তৈরি করছে।
অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও অ্যামোডেই মে মাসে বলেছিলেন, এআই বেকারত্ব বাড়াতে পারে। যদিও অন্যান্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এটি কম গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে কিছু তথ্য দেখাচ্ছে, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে প্রাথমিক স্তরের চাকরি খুঁজে পাওয়া এখন কঠিন হচ্ছে, যা অনেকের মতে প্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিক ছাঁটাই ঢেউয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গুগল বলছে, কোম্পানিটি এআইয়ের সহায়তায় সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায়। গুগলের এমন কিছু টুলস রয়েছে যা দিয়ে কোড লেখা ও সফটওয়্যার তৈরি সহজে করা যায়, কিছু টুল ফ্রি, কিছু টুলের জন্য মাসে ৪৫ ডলারের মতো দিতে হয়।
গুগলের জেমিনি কোড অ্যাসিস্টের মতো কোডিং টুল নিয়ে কাজ করা রায়ান জে সালভা বলেন, ‘গুগলে প্রায় সব কাজেই কর্মীরা এআই ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে আছে ডকুমেন্টেশন লেখা থেকে শুরু করে কোড এডিটর পর্যন্ত।
গুগলের গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সিএনএনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে রায়ান জে সালভা বলেন, ‘আপনি যদি গুগলের ইঞ্জিনিয়ার হন, তবে আপনার দৈনন্দিন কাজের অংশ হিসেবে এআই ব্যবহার করা অত্যাবশ্যক।’
শুধু প্রযুক্তি খাতে নয়, বিশ্বজুড়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এখন এআই প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে। ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানির সর্বশেষ বৈশ্বিক জরিপে জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী ৭৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অন্তত একটি ব্যবসায়িক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইয়ের সহায়তায় এখন গ্রাহকসেবায় চ্যাটবট ও ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় সেবা দেয়া যায়। ডাটা বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাসে এআই ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে আরো শক্তিশালী করছে। পাশাপাশি নিয়মিত কাজ, যেমন উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় স্বয়ংক্রিয়তা আনা হচ্ছে। এছাড়া মার্কেটিংয়ে গ্রাহকের আচরণের ওপর ভিত্তি করে পরিষেবা তৈরি করা যাচ্ছে। আবার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার সুরক্ষা বাড়াতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মতে, এআই ব্যবসাকে দ্রুততর, দক্ষ ও ফলপ্রসূ করে তুলছে।
তবে কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ফল সবসময় ইতিবাচক নয়। সম্প্রতি ‘ওয়ার্কস্লপ’ নামে একটি নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ এআই দিয়ে তৈরি কাজের মান বা গুণগত দিক সন্তোষজনক নয়। এ ধরনের কাজ ব্যবসায় আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতি করছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষক ও শীর্ষ ব্যবসায়ী সতর্ক করেছেন, ওয়ার্কস্লপ বা নিম্ন মানের এআই উৎপাদিত কাজের কারণে অফিসে কর্মদক্ষতা কমে যাচ্ছে এবং কর্মীদের মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থা হ্রাস পাচ্ছে।
হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ সম্প্রতি ওয়ার্কস্লপ শব্দটি ব্যবহার করেছে, যা এআই তৈরি নিম্ন মানের কাজের দলিল বা রিপোর্ট বোঝায়।
এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক-দশমাংশের কম এআই পাইলট প্রকল্প প্রকৃতপক্ষে কোম্পানির আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে ৯৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ থেকে কোনো সুফল পাচ্ছে না।










