কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে না বা মানব জাতিকে নিয়ন্ত্রণে নেবে না, বরং এটি মানুষের বুদ্ধিমত্তা বাড়াবে। বুধবার ভারতের বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত মেটার প্রথম বিল্ড উইথ এআই সামিটে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান এআই বিজ্ঞানী ইয়ান লেকুন এ কথা বলেন। খবর দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ইয়ান লেকুনের মতে, এআই মানব সক্ষমতাকে বাড়াতে ডিজাইন করা হয়েছে, প্রতিস্থাপন বা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নয়। এটি মানুষকে আরো ভালো সিদ্ধান্ত নিতে, জটিল সমস্যা সমাধান করতে ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তিনি এআইকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার বদলে একটি টুল হিসেবে দেখার জন্য বলছেন, যা মানব দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতাকে বাড়িয়ে তোলে। ফলে আরো নতুন সমাধান ও জীবনের মান উন্নত হয়। তার ভাষ্য, মানব ও এআইয়ের মধ্যকার সহযোগিতা একসঙ্গে ভবিষ্যতে আরো বড় সফলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

লেকুন বিশ্বাস করেন, এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করা চতুর মানুষের দলের সাহায্য পাওয়ার মতো। তিনি বলেন, ‘এআই অ্যাসিস্ট্যান্টরা প্রায়ই ব্যবহারকারীদের চেয়েও বেশি স্মার্ট হতে পারে। যদি তা আরো স্মার্ট হয়ে যায়, তবে আমাদের উদ্বিগ্ন না হয়ে বরং এর সম্ভাব্য উপকার ও সুযোগ কাজে লাগানো উচিত।’
ওপেন সোর্স এআই মডেল (সোর্স কোড বিনামূল্যে অ্যাকসেস, শেয়ার ও পরিবর্তনযোগ্য) লামা দ্বারা চালিত মেটা এআইয়ের বৈশ্বিক মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৫০ কোটির বেশি। মেটার প্রত্যাশা, এটি ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট হতে যাচ্ছে, যেখানে এর সবচেয়ে বড় বাজার ভারত। এআই অ্যাসিস্ট্যান্টটি বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো প্লাটফর্মে ইংরেজি ও হিন্দিতে ব্যবহার করা যায়।
ওপেন সোর্সের গুরুত্ব নিয়ে লেকুন বলছেন, ‘ওপেন সোর্স শুধু আজকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি ভবিষ্যতে আরো বেশি প্রয়োজনীয় হবে। সময়ের সঙ্গে এআই একটি সাধারণ অবকাঠামো হয়ে উঠবে, যা বিশ্বব্যাপী সবাই ব্যবহার করবে।’
মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এত অগ্রগতির পরও সবচেয়ে উন্নত ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) এখনো একটি চার বছরের শিশুর সমানও বুদ্ধিমান নয়, যা নির্দেশ করে যে মানবস্তরের এআই এখনো অনেক দূরের ব্যাপার।










