যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীদের জন্য আইক্লাউডের উন্নত ডাটা সুরক্ষা পরিষেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার ব্যবহারকারীর তথ্যে প্রবেশাধিকার পেতে কোম্পানিটিকে একটি ‘ব্যাকডোর’ তৈরির নিদের্শনা দেয়। এ প্রেক্ষাপটে নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য সুরক্ষা পরিষেবাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় অ্যাপল। খবর সিএনএন।

অ্যাপল জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের নতুন ব্যবহারকারীরা এখন থেকে অ্যাডভান্সড ডাটা প্রটেকশন (উন্নত ডাটা সুরক্ষা) পাবেন না। ধীরে ধীরে এটি আগের ব্যবহারকারীদের জন্যও বন্ধ হয়ে যাবে।

২০২২ সালে চালু হওয়া ফিচারটি আইক্লাউডে সংরক্ষিত ব্যবহারকারীদের ফাইল, ছবি, নোট ও অন্যান্য ডাটাকে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন দিয়ে সুরক্ষিত রাখে।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ব্রিটিশ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা গোপন নির্দেশনা দিয়ে অ্যাপলকে ‘ব্যাকডোর অ্যাকসেস’ তৈরির জন্য বলেছে। তাদের চাওয়া, সম্পূর্ণ এনক্রিপ্ট করা ডাটায় যাতে প্রবেশাধিকার পাওয়া সম্ভব হয়। এসব তথ্যের কোনো সূত্র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

অ্যাপল এক বিবৃতিতে বলেছে,‘আমরা আর যুক্তরাজ্যে অ্যাডভান্সড ডাটা সুরক্ষা দিতে পারছি না।’ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টেকজায়ান্ট আরো বলেছে, ‘ডাটা চুরির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ও গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় আমরা হতাশ। তবে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেনি।’

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনভেস্টিগেটরি পাওয়ারস অ্যাক্ট ২০১৬ অনুযায়ী, ব্রিটিশ সরকার ‘টেকনিক্যাল ক্যাপাবিলিটি নোটিস’ ব্যবহার করে অ্যাপলকে ব্যাকডোর অ্যাকসেস দিতে বলেছে। আইনটি ‘স্নুপার্স চার্টার’ নামেও পরিচিত।

এ আইন ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের ডিভাইসে হ্যাকিং, বিশাল পরিমাণ অনলাইন ডাটা সংগ্রহ ও এনক্রিপশন ভেঙে নজরদারির সুযোগ দেয়। পাশাপাশি সরকার যদি কোনো পক্ষকে এমন নির্দেশ দেয়, তাহলে তা প্রকাশ করা অপরাধ বলে গণ্য হবে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এ ধরনের গোপন নির্দেশনা নিশ্চিত বা অস্বীকারের বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করি না।’

এদিকে, এমন সিদ্ধান্তে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ছবি, বার্তা ও ব্যাকআপ তৃতীয় পক্ষের কাছে আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, যার মধ্যে সরকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনালের আইনি উপদেষ্টা ক্যারোলিন উইলসন বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকার একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা অন্যান্য দেশও অনুসরণ করতে পারে।’

প্রসঙ্গত, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন হলো এমন পদ্ধতি, যেখানে মেসেজগুলোকে এমনভাবে সংকেতায়ন করা হয়, যা শুধু প্রেরক ও গ্রহণকারীই তা পড়তে পারেন। মাঝপথে কেউ মেসেজটি আটকে ফেললেও এটি দুর্বোধ্য বিশৃঙ্খল কোড হিসেবে পাবে, যা নির্দিষ্ট কি ছাড়া উদঘাটন করা সম্ভব নয়।