বিশ্বজুড়ে র্যানসমওয়্যার হামলার অর্ধেকেরও বেশি ঘটনায় সফলভাবে মুক্তিপণ আদায় করতে সক্ষম হয় সাইবার অপরাধীরা। গত জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে এমন আক্রমণের শিকার প্রায় অর্ধেক প্রতিষ্ঠান হ্যাকারদের অর্থ পরিশোধ করে তথ্য পুনরুদ্ধার করেছে। তবে এসব কোম্পানি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাইবার অপরাধীদের দাবি করা অর্থের চেয়ে কমে সমঝোতায় পৌঁছতে পেরেছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সোফোস প্রকাশিত এক সমীক্ষায়। খবর টেকমনিটর।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত চালানো এ সমীক্ষায় বিশ্বের ১৭টি দেশের ৩ হাজার ৪০০ তথ্যপ্রযুক্তি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তার থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে দেখা গেছে, র্যানসমওয়্যারে আক্রান্ত গড়ে প্রতি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি হ্যাকারদের অর্থ পরিশোধে বাধ্য হয়েছে। তবে অর্থ পরিশোধকারীদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা হ্যাকারদের দাবির তুলনায় কম পরিমাণে অর্থ দিয়ে ডাটা পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে।
সোফোস জানিয়েছে, কম পরিমাণ অর্থে সমাধান পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে হ্যাকারদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর প্রথম তিন মাসে মুক্তিপণের চাহিদা এক-তৃতীয়াংশ ও পরিশোধের হার অর্ধেকে নেমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যাকাররা যেমন নানা উপায়ে আক্রমণ করছে, তেমনি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন ও কৌশলী হয়ে উঠেছে।
সোফোসের কর্মকর্তা চেস্টার উইসনিউস্কি বলেন, ‘বর্তমানে র্যানসমওয়্যার যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই বড় হুমকি। তবে ইতিবাচক বিষয় হলো, এখন অনেক প্রতিষ্ঠান ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম গঠন করছে ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিচ্ছে। ফলে আক্রমণ প্রতিরোধ ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া আরো দ্রুততর হচ্ছে।’
গবেষণায় র্যানসমওয়্যার আক্রমণের সবচেয়ে বড় প্রবেশপথ হিসেবে সফটওয়্যারের অজানা দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় বেশির ভাগ আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানই জানত না যে হ্যাকাররা কোন জায়গা থেকে আক্রমণ চালিয়েছে। এসব হামলার পেছনে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বা রিসোর্সের ঘাটতিকেই মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ দক্ষতার অভাব ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান বাধা ছিল কর্মী সংকট।
সোফোসের গবেষণায় আরো দেখা গেছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৪৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান সফলভাবে আক্রমণ ঠেকাতে পেরেছে। এটি গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে এর বিপরীতে ব্যাকআপ (ডাটা হারিয়ে গেলে পুরনো সংরক্ষিত কপি দিয়ে তা পুনরুদ্ধার করা) ব্যবহারের হার কমে ৫৪ শতাংশে এসেছে। এটি আবার চলমান সময়ের মধ্যে সবচেয়ে নিচে।
এছাড়া ডাটা পুনরুদ্ধারে গড় খরচ তিন মাসে কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখের বেশি ডলারে, যেখানে গত বছর এ খরচ ছিল ২৭ লাখের ঊর্ধ্বে। খরচ কমার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে।
এছাড়া সমীক্ষায় অংশ নেয়া অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা এক সপ্তাহের মধ্যেই স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে সক্ষম হয়েছে।










