বিদ্যুৎ সরবরাহজনিত ঘাটতির কারণে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ৪০ শতাংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডাটা সেন্টারের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। কানেকটিকাটভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টনারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, এআই ও জেনারেটিভ এআই (জেনএআই) প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে এ সমস্যা আরো তীব্র হতে পারে। যেহেতু এআই প্রযুক্তি পরিচালনায় প্রচুর বিদ্যুৎ শক্তির প্রয়োজন হয়, তাই ডাটা সেন্টারগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এ চাপ মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। খবর টেকমনিটর।
গার্টনার বলছে, মূলত এআই-অপটিমাইজড সার্ভার বাড়ায় বিদ্যুতের যে চাহিদা বাড়ছে, তা ডাটা সেন্টারের কার্যক্ষমতা ও সম্প্রসারণের প্রচেষ্টায় প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বে এআইসংশ্লিষ্ট কাজের জন্য বছরে মোট বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহারের পরিমাণ ৫০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টা (টিডব্লিউএইচ) পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। সংখ্যাটি ২০২৩ সালের ১৯৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টার তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। এর আগে ২০২২ সালে এআইসংশ্লিষ্ট কাজের জন্য মোট বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার হয় ৭৪ টেরাওয়াট-ঘণ্টা।
গার্টনারের বিশেষজ্ঞ বব জনসন বলছেন, হাইপারস্কেল ডাটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ শক্তির জন্য বিপুল চাহিদা তৈরি করছে। এ চাহিদা শিগগিরই বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাকে অতিক্রম করবে। ফলে বিদ্যুতের ঘাটতি সৃষ্টি হতে পারে, যা ২০২৬ সাল থেকে জেনএআই ডাটা সেন্টারগুলোর প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করবে। এসব হাইপারস্কেল ডাটা সেন্টার ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা, এআই, বিপুল ডাটা প্রক্রিয়াকরণ ও অন্যান্য উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন অ্যাপ্লিকেশন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয়।
বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্রমাগত বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করে গার্টনার বলছে, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোয় অপারেটিং খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। কারণ বিদ্যুৎ চাহিদা সরবরাহকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের দাম বাড়বে, যা এআই মডেল পরিচালনার খরচ অনেক বেশি বাড়িয়ে দেবে। গার্টনার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তাদের পরিকল্পনায় এ বাড়তি খরচের বিষয়টি মাথায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানকে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করার জন্যও উৎসাহিত করা হয়েছে। যেন তারা নতুন পণ্য ও পরিষেবা তৈরির সময় বাড়তে থাকা বিদ্যুতের খরচের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে।
গার্টনার আরো বলছে, বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে টেকসই লক্ষ্য অর্জনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। পুরনো জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক পাওয়ার প্লান্টগুলো পূর্বপরিকল্পিত সময়সীমার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চালু রেখে এ চাহিদা পূরণ করছে বিদ্যুৎ সরবরাহকারীরা। তবে এ কৌশল শূন্য কার্বন শক্তির দিকে পরিবর্তন প্রক্রিয়া ধীর করার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী টেকসই লক্ষ্যমাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংস্থাটির মতে, শুধু নবায়নযোগ্য উৎস যেমন বাতাস ও সৌরশক্তি থেকে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন। এসব নবায়নযোগ্য উৎসগুলো অনেক সময় কম শক্তি উৎপন্ন করায় তাদের জন্য অতিরিক্ত সাপোর্ট সিস্টেম প্রয়োজন হয়। ফলে এগুলো ধারাবাহিক বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে নির্ভরযোগ্য নয়। বর্তমানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত জলবিদ্যুৎ, জীবাশ্ম জ্বালানি বা পারমাণবিক শক্তির মাধ্যমে সম্ভব। তবে গার্টনার উল্লেখ করেছে, উদীয়মান প্রযুক্তি যেমন সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ও ছোট পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের মতো উন্নত ব্যাটারি স্টোরেজ ভবিষ্যতে ডাটা সেন্টারের জন্য আরো নির্ভরযোগ্য শক্তি সরবরাহ করতে পারে। পূর্বাভাস করা এসব চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে গার্টনার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তাদের কার্বন নিঃসরণ ও টেকসই লক্ষ্যগুলো পুনর্মূল্যায়ন করার পরামর্শ দিয়েছে, যেন তা এআই ডাটা সেন্টারের ভবিষ্যৎ শক্তি চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।










