বাংলাদেশে রাইডশেয়ারিং প্লাটফর্মের
যাত্রা খুব বেশিদিনের নয়। ২০১৬ সালে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বেশ কিছু প্লাটফর্ম কাজ
শুরু করে। প্রথম থেকে ১৫টিরও বেশি রাইডশেয়ারিং অ্যাপ বাংলাদেশে চালু থাকলেও সময়ের পরিক্রমায়
গুটিকয়েক সেবা টিকে রয়েছে।
অবশ্য টিকে যাওয়া প্লাটফর্মগুলো তাদের
পরিষেবাকে দিনে দিনে উন্নত করেছে। এর মধ্যে একটি যাত্রীর সুরক্ষা নিশ্চিতে বিভিন্ন
ধরনের নিরাপত্তা ফিচারের উদ্ভাবন ও পরিমার্জন। ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা ও সহায়তার জন্য
উবার, পাঠাও এবং ওভাই-এর মতো রাইডশেয়ারিং অ্যাপ এসব ফিচার যুক্ত করেছে।
অনেকেই জানেন না যে, দিন বা রাতের যেকোনো
সময় রাইড বুক করা সম্ভব। গভীর রাতই হোক কিংবা কাক-ডাকা ভোরই হোক, যদি যাত্রী কোনো বিপদে
পড়ে, অ্যাপের এসওএস বাটনের মাধ্যমে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কাছাকাছি পুলিশ স্টেশনের সঙ্গে
যোগাযোগ করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, যাত্রী বা চালকের সেলফোনের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেও
নন-সেলুলার ইন্টারনেট কলের মাধ্যমে তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। এতে সময়
ও খরচ দুটোরই সাশ্রয় হবে এবং নির্বিঘ্নে কথাও বলা যাবে।
এছাড়া প্ল্যাটফর্মগুলো যাত্রীদের সঙ্গে
চালকের প্রোফাইল শেয়ার করে থাকে। এ প্রোফাইলে শুধু চালকই নয় গাড়িরও বিস্তারিত বর্ণনা
থাকে। এসব তথ্যের মধ্যে থকে গাড়ির ধরন, রঙ, লাইসেন্স প্লেট নম্বর, চালকের নাম ও রেটিং।
আজকাল রাইডশেয়ারিং প্লাটফর্মগুলো নিরাপত্তাকে
সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তাই অনেক প্লাটফর্মই বছর জুড়ে যাত্রীদের সার্বক্ষণিক সহায়তা
দেয়। এর ফলে যাত্রীরা অ্যাপের মাধ্যমেই যেকোনো ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের
সাহায্য পান। যাত্রী ও চালকদের উন্নত অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ
ফিচার হলো রিয়েল টাইম রেটিং ও ফিডব্যাক।
চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায়
রেখে রাইডশেয়ারিং প্লাটফর্মগুলো নিজেদের ক্যান্সেলেশন পদ্ধতিও সময়োপযোগী করেছে। পাশাপাশি
বিবাদ বা গাড়ি নষ্ট হওয়ার মতো জরুরি কিন্তু মারাত্মক নয় এমন সমস্যার জন্য আছে ২৪/৭
হেল্পলাইন। এর ফলে ট্রিপ শেষ হওয়ার ৩০ মিনিট পর পর্যন্ত ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে হেল্পলাইনে
যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।
প্লাটফর্মগুলো তাদের নজরদারি পদ্ধতিতেও
পরিবর্তন আনছে। উদাহরণ হিসেবে উবারের প্রযুক্তি-ভিত্তিক নিরাপত্তা ফিচার রাইডচেক ৩.০-এর
কথা বলা যায়। এ ফিচার ট্রিপ চলাকালে চালক অথবা যাত্রীর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে এমন
কোনো অসঙ্গতি বা ব্যতিক্রমী ঘটনা শনাক্ত করে। বর্তমানে কার্যকর এ ফিচারটি ভিন্ন পথ
দিয়ে যাওয়া, মাঝপথে নামিয়ে দেয়া, দীর্ঘক্ষণ ধরে থেমে থাকাসহ নানা ধরনের অসঙ্গতি শনাক্ত
করে। শনাক্ত হওয়ার সঙ্গেই চালক বা যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে।










