কাজের ধরন ও প্রয়োজনভেদে নির্দিষ্ট সময় পর ল্যাপটপ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। যেকোনো গ্যাজেট আপগ্রেডে আগেরটি বিক্রি করে আর্থিক সমস্যা অনেকাংশে মেটানো সম্ভব। তবে হুটহাট বিক্রির জন্য নিজের ল্যাপটপ ক্রেতার কাছে নেয়া বোকামি ও অনিরাপদ হতে পারে। কনফিগারেশন যত ভালোই হোক না কেন, বাহ্যিক কিছু বিষয় দামে হেরফের আনতে পারে। অন্যদিকে ব্যক্তিগত তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ পেইড সফটওয়্যারের অ্যাকসেস অন্যের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তো রয়েছেই। তাই ল্যাপটপ বিক্রির আগে কিছু বিষয়ে লক্ষ রাখা জরুরি-

হার্ডওয়্যার পরিষ্কার

বিক্রির আগে ল্যাপটপ যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখায় তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। প্রাথমিক ধুলাবালি দূর করতে মাইক্রোফাইবারের তৈরি কাপড় ও নরম ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। স্ক্রিন পরিষ্কার করার সময় অবশ্যই বাড়তি সতর্ক হতে হবে যাতে অযাচিত দাগ না পড়ে। তবে দাগ তুলতে গিয়ে অতিরিক্ত ঘষামাজা করা যাবে না। অনেক সময় কাপড় পানিতে ভিজিয়ে আলতোভাবে মুছলেও দাগ ও ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। এ কাজে বাজারে বিশেষ ধরনের লিকুইড পাওয়া যায়। ইউএসবিসহ বিভিন্ন পোর্ট ও কোনায় ময়লা পরিষ্কারের জন্য কম্প্রেসড এয়ার যন্ত্র বেশ কাজের। পরিষ্কারের আগে অবশ্যই ল্যাপটপ বন্ধ করতে ও সব ধরনের কেবল সংযোগ খুলতে হবে।

ডাটা ব্যাকআপ

ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কেউ দেখুক তা নিশ্চয় কেউ চাইবে না! সহজ কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে ল্যাপটপের সব ডাটা ব্যাকআপ করে নেয়া সম্ভব। উইন্ডোজের জন্য ‘উইন্ডোজ ব্যাকআপ’ এবং ম্যাকবুকের জন্য ‘টাইম মেশিন’ বা ‘আইক্লাউড’। সফটওয়্যারগুলোর মাধ্যমে ক্লাউড স্টোরেজ বা পোর্টেবল হার্ড ডিস্কে সব ডাটার ব্যাকআপ নেয়া যাবে।

লাইসেন্স কি সরানো

মাইক্রোসফট অফিস থ্রিসিক্সটিফাইভ, অ্যাডোবিসহ এমন অনেক সফটওয়্যার আছে যেগুলো মাসিক বা বার্ষিক ফি দিয়ে অথবা ‘লাইসেন্স কি’ কিনে ব্যবহার করতে হয়। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। এসব না সরিয়ে যদি ল্যাপটপ বিক্রি করা হয় তাহলে এর অপব্যবহার হতে পারে। সেজন্য ল্যাপটপে থাকা সব ধরনের পেইড সফটওয়্যারের লাইসেন্স কি সরানো জরুরি। অথবা যেসব অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সাবস্ক্রিপশন তথ্য জড়িত সেগুলো লগআউট করে নিতে হবে।

সব ধরনের তথ্য মুছে ফেলা

বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ল্যাপটপের সব ধরনের তথ্য মুছে ফেলার পরও ক্ষেত্রবিশেষে সেগুলো ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য যদি সম্ভব হয় তাহলে স্টোরেজ ড্রাইভ খুলে নেয়া যেতে পারে। যদিও তা অনেকের কাছে অবাক করা বিষয় হতে পারে। কারণ স্টোরেজ ড্রাইভ ছাড়া ল্যাপটপ অসম্পূর্ণ। এর জন্য কাঙ্ক্ষিত দামও পাওয়া যাবে না। তবে তা করা সম্ভব না হলে সব ডাটা মুছে ফেলতে হবে। এর পর উইন্ডোজের ক্ষেত্রে ‘রিসেট দিস পিসি’-এর মাধ্যমে ল্যাপটপকে নতুন অবস্থায় আনতে হবে। ম্যাক কম্পিউটারের ক্ষেত্রে ‘ইরেজ অল কনটেন্ট ও সেটিংস’ অপশন রয়েছে।

আনলিংক ডিভাইস

উইন্ডোজের জন্য মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট থেকে ল্যাপটপ আনলিংক করা জরুরি। এজন্য account.microsoft.com লিংকে গিয়ে মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। এরপর ‘ডিভাইসেস’ অপশন থেকে কাঙ্ক্ষিত ডিভাইস রিমুভ করতে হবে। এর জন্য আনলিংক অপশনে ক্লিক করলে কাজ হয়ে যাবে। এর মাধ্যমে মাইক্রোসফটের অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ল্যাপটপে সব ধরনের সেবা বন্ধ হয়ে যাবে। স্ল্যাশগিয়ার অবলম্বনে