লন্ডনে শিশুদের পরিচর্যার জন্য পরিচালিত নার্সারি প্রতিষ্ঠান কিডো ইন্টারন্যাশনালের আট হাজারের বেশি শিশুর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করেছে হ্যাকাররা। নিজেদের ‘রেডিয়ান্ট’ হিসেবে পরিচয় দেয়া হ্যাকার দলটি প্রমাণ হিসেবে ১০ জন শিশুর নাম, ছবি, বাড়ির ঠিকানা ও পরিবারের যোগাযোগের তথ্য ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করেছে। খবর রয়টার্স।

হ্যাকাররা আরো হুমকি দিয়েছে, তারা প্রতিটি শিশুর ৩০টি করে প্রোফাইল এবং ১০০ কর্মচারীর তথ্য প্রকাশ করতে পারে। তারা নিজেদের অবস্থান রাশিয়ায় উল্লেখ করলেও এ দাবির কোনো প্রমাণ দেখায়নি।

কিডো ইন্টারন্যাশনালের ১৮টি নার্সারির একটিতে এ তথ্য চুরির ঘটনা ঘটেছে।

লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট বিষয়টি দেখছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘তদন্ত চলমান এবং এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি।’

লন্ডনের জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের জনাথন এলিসন এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘যারা শিশুদের যত্ন নেন, তাদের লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা বিশেষভাবে নিন্দনীয়।’

এ ঘটনা শুধু কিডো ইন্টারন্যাশনালের নয়, বরং চলতি বছরে যুক্তরাজ্যে ঘটে যাওয়া একাধিক বড় সাইবার হামলার একটি। ফলে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

এপ্রিলে ‘স্ক্যাটারড স্পাইডার’ নামে একটি হ্যাকার গ্রুপ ব্রিটিশ খুচরা বিক্রেতা কোম্পানি মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার হ্যাক করেছিল। ফলে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক সপ্তাহ ধরে অনলাইনে অর্ডার নিতে পারেনি। কোম্পানি পরে জানিয়েছিল, এ হামলার কারণে তাদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৩০ কোটি পাউন্ড লোকসান হতে পারে।

গত মাসে কলিন্স এয়্যারস্পেসের বিরুদ্ধে র‍্যানসমওয়্যার হামলার তদন্তে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই হামলার কারণে লন্ডন হিথরো বিমানবন্দরের স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন সিস্টেমে সমস্যা হয় এবং ইউরোপের অন্যান্য বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভ্রমণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের সাইবার হামলায় যে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেমন জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার বা কলিন্স এয়্যারস্পেস, তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয় বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার।

কিডো ইন্টারন্যাশনাল এ হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি এবং সাইবার নিরাপত্তার মান উন্নয়ন না হলে এমন হামলার ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে।