কভিড-১৯ মহামারী পুরো বিশ্বে পরিবর্তন এনেছে। শিল্প থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতের উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শিল্পোৎপাদনে শীর্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে চীন অন্যতম। মহামারীর বাধায় বিভিন্ন কোম্পানি উৎপাদন কার্যক্রম চীন থেকে সরিয়ে নিয়েছে। যাদের মধ্যে অ্যাপল অন্যতম। কভিড-১৯-পরবর্তী কোম্পানিটি ভারতে বড় বিনিয়োগ করেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে আরো কার্যক্রম বাড়াতে চাইছে কুপারটিনোর এ প্রযুক্তি জায়ান্ট। এর অংশ হিসেবে যন্ত্রাংশ উৎপাদন বাড়ানোর কথা ভাবছে অ্যাপল।

মানিকন্ট্রোল প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে গিজমোচায়নার খবরে বলা হয়, ভারতে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে যন্ত্রাংশ তৈরির হার বাড়াতে বর্তমানে কাজ করছে কোম্পানিটি। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় আইফোন নির্মাতা এর পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, অ্যাপল অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী এবং এ লক্ষ্যে সব কাজ করছে।

সরবরাহ চেইনকে আরো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দেশীয় পর্যায়ে উৎপাদন আরো বাড়ানো যায় কীভাবে সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ভারতে স্মার্টফোন উৎপাদন খাতের সার্বিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাপলকে কর মওকুফ বা ভর্তুকি দেয়া না হলেও কোম্পানিটি বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহী বলে সূত্রে জানা গেছে।

কর্মকর্তারা জানান, অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে উপাদান বা যন্ত্রাংশের উৎপাদন শুরু করতে আগ্রহী অ্যাপল। চীন থেকে উৎপাদন কার্যক্রম সরিয়ে আনতে অ্যাপলের যে উদ্যোগ তারই একটি অংশ এটি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অ্যাপলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও উপাদানের বড় অংশ চীন থেকে আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ নির্ভরতা কমাতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের এ টেক জায়ান্ট। ২০১৭ সাল থেকে ভারতে আইফোন উৎপাদন করে আসছে অ্যাপল। বর্তমানে দেশটিতে উৎপাদন হার ৭ শতাংশ। সামনের বছরগুলোয় উৎপাদন হার আরো বাড়ার বিষয়ে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে উপাদান বা যন্ত্রাংশের উৎপাদন বাড়াতে অ্যাপলের যে পরিকল্পনা তা ভারতের বৈদ্যুতিক খাতের জন্য ইতিবাচক। সরকার যে পিএলআই স্কিম চালু করেছে তা স্মার্টফোন প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে বড় বিনিয়োগ আনতে সক্ষম হয়েছে। সে সঙ্গে অ্যাপলের নতুন এ উদ্যোগ এ খাতের প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তারা। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে ভারত আরো স্বনির্ভরশীল হয়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন।

আগে ২০২০ সালের শেষ দিকে অ্যাপলের কেবল ও কানেক্টর সরবরাহকারী চেং উয়েই প্রিসিশন ইন্ডাস্ট্রি ভারতের চেন্নাইয়ে ব্যাপক উৎপাদন শুরুর কথা জানিয়েছিল। তাইওয়ানভিত্তিক কোম্পানিটির পদক্ষেপের ঘোষণা এমন সময় আসে, যখন অ্যাপলের অন্য সহযোগী কোম্পানিগুলোও আইফোন উৎপাদনের লক্ষ্যে ভারতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছিল। ফক্সলিংক নামেও পরিচিত চেং উয়েই প্রিসিশন ইন্ডাস্ট্রি।

অ্যাপল যখন উৎপাদন স্থানান্তরে কাজ করছে তখন আরেক মার্কিন টেক জায়ান্ট এনভিডিয়া চীনে বাজার হারানোর শঙ্কা প্রকাশ করেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধের কারণে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোম্পানির পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু চীনের বাজার হারালে তা কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হবে। হুয়াং বলেন, ‘চীনের বাজারে পণ্য বিক্রি করতে না পারলে তা আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের পণ্য বিক্রিতে অন্যতম বড় বাজার হচ্ছে চীন। আর সেখানে প্রতিযোগিতা বজায় রাখা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’