কম্পিউটারকে ভাইরাস থেকে বাঁচতে যতই সতর্কতা অবলম্বন করা হোক না কেন, যেকোনো সময় অসাবধানতাবশত কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকে যেতে পারে। উইন্ডোজের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও একটি ভুল ক্লিকই অনেক সময় বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। সন্দেহজনক লিঙ্ক, ভুয়া ব্রাউজার এক্সটেনশন বা অবিশ্বস্ত কোনো ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা ফাইলের মাধ্যমে সহজেই ভাইরাস ঢুকে যেতে পারে ডিভাইসে। কম্পিউটার অস্বাভাবিক আচরণ করলে অনেকেই ভাবেন যে ফ্যাক্টরি রিসেট করলেই হয়তো ভাইরাস দূর হয়ে যাবে।
ফ্যাক্টরি রিসেটে পিসির সব অ্যাপ, ছবি, ভিডিও, ফাইল মুছে যায়। এমনকি অপারেটিং সিস্টেমও নতুন করে ইনস্টল হয়। সাধারণত এর মাধ্যমে বেশির ভাগ ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার দূর হয়। এতে পিসি নতুনের মতো কাজ করতে শুরু করে আর অন্যান্য সমস্যাও দূর হয়। তবে সেটিংসের ক্ষেত্রে ‘রিমুভ এভ্রিথিং’ অপশন বাছাই করা জরুরি। না হলে ভাইরাস থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যাবে না।
ফ্যাক্টরি রিসেট যে কারণে শতভাগ কার্যকর নয়
ফ্যাক্টরি রিসেট করলেই যে সব ভাইরাস মুছে যাবে বিষয়টি এমন নয়। কারণ কিছু ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার এতটাই চতুর হয় যে তারা কম্পিউটারের গভীরে যেমন মাদারবোর্ডে লুকিয়ে থাকে। যেহেতু ফ্যাক্টরি রিসেট সে জায়গাগুলোয় প্রভাব ফেলতে পারে না, তাই ভাইরাস থেকে যায়। এ ধরনের ভাইরাসকে বলা হয় রুটকিট, যা হ্যাকারদের পিসির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করে। ব্যবহারকারীর কম্পিউটার যদি হঠাৎ ব্লু স্ক্রিন দেখায়, ক্র্যাশ হয় বা ব্রাউজারে অজানা পরিবর্তন হয়, তাহলে বুঝতে হবে ভাইরাস হয়তো রুটকিটে লুকিয়ে আছে। এমন ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট ডিফেন্ডারের অফলাইন স্ক্যান ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়। এটি উইন্ডোজের বাইরে থেকে স্ক্যান করে লুকানো ভাইরাস খুঁজে বের করে।
রিসেটের পরেও যেভাবে ভাইরাস ফিরে আসতে পারে
ফ্যাক্টরি রিসেটের আগে বেশির ভাগ ব্যবহারকারী তাদের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ব্যাকআপ নেন। কিন্তু যদি সে ব্যাকআপে ভাইরাস লুকিয়ে থাকে, তাহলে রিসেটের পর ফাইল ফেরত নেয়ার সময় আবারো ভাইরাস ফিরে আসতে পারে। তাই রিসেটের পর ফাইল কপি করার আগে অন্য একটি নিরাপদ কম্পিউটারে ব্যাকআপ ড্রাইভ স্ক্যান করে নেয়া জরুরি। এমনকি ইউএসবি ডিভাইস, প্রিন্টার বা ওয়াই-ফাই অ্যাডাপ্টরের মতো ডিভাইসেও ভাইরাস লুকিয়ে থাকতে পারে যদি তাতে সন্দেহজনক ক্ষতিকর ফার্মওয়্যার থাকে। যদিও এটি খুবই বিরল ঘটনা, তবু সতর্ক থাকা ভালো।
নিরাপদ থাকার উপায়
উইন্ডোজের সিকিউরিটি ব্যবস্থা এখন অনেক শক্তিশালী হলেও, একটি ভালো অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। মাইক্রোসফট সবসময় সর্বশেষ সিকিউরিটি আপডেট দিতে পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে অবিশ্বস্ত লিঙ্কে ক্লিক না করা, অজানা সংযুক্তি না খোলা ও শুধু বিশ্বস্ত সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিত। এসব সতর্কতা মেনে চললে কম্পিউটার অনেকাংশে ভাইরাসের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকবে।
তাই পিসিকে সুরক্ষিত রাখতে সবসময় বিশ্বস্ত সোর্স থেকে সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে, ব্যবহারকারীদের সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক এড়িয়ে চলতে হবে এবং নিয়মিত নিরাপত্তা হালনাগাদ করতে হবে। এতে কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
স্ল্যাশগিয়ার অবলম্বনে










