ওয়েবের যেকোনো তথ্য খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য প্লাটফর্ম সার্চ জায়ান্ট গুগল। ২০২৫ সালের হালানাগাদ তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫০১ কোটি মানুষ গুগল ব্যবহার করছে। সার্চ ইঞ্জিন বাজারের ৯০ শতাংশের বেশি হিস্যা নিয়ে শীর্ষস্থানীয় প্লাটফর্ম হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানিটি। সার্চ ইঞ্জিনের মধ্যে বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫৫৬ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রথম পছন্দ গুগল। ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের চলতি সপ্তাহের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ডিমান্ডসেইজ বলছে, প্লাটফর্মটির ব্যাপক প্রসার ও নির্ভরযোগ্যতা গুগলকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত সার্চ ইঞ্জিনে পরিণত করেছে। গত বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯০ শতাংশ অনুসন্ধান পরিচালিত হয় গুগলের মাধ্যমে। অর্থাৎ প্রতি ১০ জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রায় নয়জন তথ্য অনুসন্ধানের জন্য গুগল ব্যবহার করে।

বিশ্বব্যাপী গুগলে সবচেয়ে বেশি সার্চ হওয়া শব্দ ‘ইউটিউব’। মাসে প্রায় ৩৭ কোটিবারের বেশি এ শব্দ খোঁজ করা হয়। এরপর আছে ফেসবুক, অ্যামাজন ও ট্রান্সলেট। ১৯৯৯ সালে গুগলের বার্ষিক সার্চ সংখ্যা ছিল ১০০ কোটি। ২০১৬ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে বছরে দুই লাখ কোটি ছাড়িয়ে যায়। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে গুগলে বিভিন্ন বিষয় খোঁজ করা হয় পাঁচ লাখ কোটিবারের বেশি।

গুগল কয়েক বছর ধরেই সার্চ ফলাফল উন্নত করতে কাজ করছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি উন্মুক্ত হওয়ার পর সার্চের ক্ষেত্রে এআই নিয়ে গবেষণা ও এর ব্যবহার বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিষেবা উন্নত করার প্রসঙ্গে গুগল সম্প্রতি জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করতে শিগগিরই মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করবে কোম্পানিটি। যুক্তরাষ্ট্রে একটি মেশিন লার্নিং মডেল পরীক্ষা করছে তারা। এটি ব্যবহারকারীর বয়স ১৮-এর কম কিনা, তা শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। বয়স নিশ্চিত করতে সেলফি, ক্রেডিট কার্ড বা সরকারি আইডির মাধ্যমে ভেরিফিকেশনের বিকল্প থাকবে। চলতি বছর গুগল সার্চে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই।

গুগলের তথ্যানুযায়ী, কোম্পানির যাত্রা ১৯৯৫ সালে স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়। ল্যারি পেজ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চিন্তা করছিলেন, আর সারগেই তাকে ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখানোর দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় তারা ডর্ম রুমে বসে একটি ‘ব্যাকরাব’ সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করেন। এর কিছুদিন পর ব্যাকরাবের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় গুগল। নামটি ছিল একটি গাণিতিক শব্দ, যেখানে ১-এর পর ১০০টি শূন্য থাকে। গুগলের লক্ষ্য ছিল, বিশ্বের তথ্যকে সংগঠিত করা এবং তা সবার জন্য প্রবেশযোগ্য ও উপকারী করে তোলা।

আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত গুগল একটি বহুজাতিক ইন্টারনেট পরিষেবা কোম্পানি। প্রথমে এটি ‘পেজর‍্যাংক’ অ্যালগরিদমভিত্তিক ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে তৈরি হয়েছিল। তবে এখন গুগল ডেস্কটপ, মোবাইল ও অনলাইন প্লাটফর্মে বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা দিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে একটি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। গুগল সার্চ এখনো কোম্পানির প্রধান পণ্য। এর সঙ্গে বিজ্ঞাপন পরিষেবা, যোগাযোগ ও প্রকাশনা টুল, ডেভেলপমেন্ট ও পরিসংখ্যানমূলক সরঞ্জাম ও ম্যাপ সম্পর্কিত পণ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৪ সালে কোম্পানির নিট আয় ৩৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার কোটি ডলারে। সর্বশেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) অ্যালফাবেটের আয় প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকলেও মুনাফা সংশ্লিষ্টদের অনুমানের চেয়ে বেশি ছিল।