ওপেনএআই একটি মার্কিন ফেডারেল আদালতে নিউইয়র্ক টাইমসের কপিরাইট মামলার কিছু অংশ খারিজ করার আহ্বান জানিয়েছে। ওপেনএআই অভিযোগ করেছে সংবাদ মাধ্যমটি তাদের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিসহ অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) সিস্টেমগুলোর বিরুদ্ধে করা মামলার পক্ষে বিভ্রান্তিকর প্রমাণ তৈরি করতে হ্যাকিংয়ের পথ অবলম্বন করেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস চ্যাটজিপিটির মালিক প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় তারা অভিযোগ করে, নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশিত লাখ লাখ নিবন্ধ সংবাদমাধ্যমটির অনুমতি ছাড়াই চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছে। এ মামলায় ওপেনএআইয়ের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটকেও অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে ওপেনএআইয়ের দায়ের করা এক নথিতে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক টাইমস ওপেনএআইয়ের ব্যবহারের শর্তাবলি লঙ্ঘন করেছে। তারা ভ্রান্তিমূলক প্রম্পট বা ইনপুট ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তিকে কপিরাইট তথ্য দেয়ার জন্য প্ররোচিত করেছে। ওপেনএআই আরো দাবি করেছে, নিউইয়র্ক টাইমসের ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি সিস্টেমকে হ্যাক করে ম্যানিপুলেট করার জন্য কোনো ব্যক্তিকে অর্থ দিয়েছে। তবে ওপেনএআইটি এখনো হ্যাকিং করা ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেনি এবং সংবাদমাধ্যমটিকে হ্যাকিংবিরোধী আইন লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করেনি। 

এর আগে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করার সময় নিউইয়র্ক টাইমস অভিযোগ করেছিল, চ্যাটজিপিটির মতো এআই মডেলগুলো এখন তথ্যের বিশ্বস্ত উৎস হিসেবে নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। অভিযোগে অনুসারে, চ্যাটজিপিটির কাছে কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তা অনুমতিবিহীনভাবে নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধগুলো থেকে ‘শাব্দিক উদ্ধৃতি’ ব্যবহার করে, যা আগে পাঠকরা নিউইয়র্ক টাইমস সাবস্ক্রিপশন ছাড়া পড়তে পারত না। মামলায় আরো বলা হয়, নিউইয়র্ক টাইমস সাবস্ক্রিপশন আয়ের পাশাপাশি ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন থেকে আসা আয়ও হারাচ্ছে। 

এআই মডেল প্রশিক্ষণের কপিরাইট কনটেন্ট অপব্যবহারের অভিযোগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে করা বেশ কয়েকটি মামলার মধ্যে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস মামলাটিও অন্যতম। মূলত লেখক, ভিজুয়াল শিল্পী ও সংগীত প্রকাশকরা অনেক দিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে এআই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যায়ভাবে তাদের কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট ব্যবহার করছে। 

অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তি দেখিয়েছে, তাদের এআই সিস্টেমগুলো ন্যায্যভাবে কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট ব্যবহার করে আসছে অর্থাৎ তাদের সিস্টেমগুলো ফেয়ার ইউজ নীতিমালার আওতায় কাজ করছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আরো জানায়, এ ধরনের মামলা এআই-নির্ভর সম্ভাবনাময় ট্রিলিয়ন ডলারের এ শিল্পের প্রবৃদ্ধিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তবে মার্কিন আদালত এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি যে এআই সিস্টেমগুলো কপিরাইট আইনের অধীনে ন্যায্যভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা।

ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক টাইমসের মামলায় আরো দাবি করা হয়েছিল, এআই প্রতিষ্ঠানগুলো বিনামূল্যে সাংবাদিকতায় নিউইয়র্ক টাইমসের বহু বছরের বিনিয়োগকে নিজেদের কাজে লাগানোর পাশাপাশি সংবাদপত্রের বিকল্প তৈরির চেষ্টা করেছে।

ওপেনএআই এ অভিযোগের বিপক্ষে জানায়, তাদের চ্যাটবট থেকে অস্বাভাবিক ফলাফল তৈরিতে নিউইয়র্ক টাইমসকে কয়েক হাজার বার প্রচেষ্টা করতে হয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলে, সাধারণত চ্যাটজিপিটি সহজে নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধ দেখায় না। নিউইয়র্ক টাইমস ও ওপেনএআইয়ের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য প্রদান করেনি।