ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতার চাহিদা, নতুন প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ এবং গেমিং, অনলাইন শিক্ষা ও ভার্চুয়াল মিটিংয়ের মতো খাতের কারণে এআর-ভিআর (অগমেন্টেড রিয়ালিটি ও ভার্চুয়াল রিয়ালিটি) হেডসেটের ব্যবহার বাড়ছে। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বিশ্বজুড়ে এসব হেডসেটের বাজার ১৮ দশমিক ১ শতাংশ সম্প্রসারণ হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা আইডিসি। এ সময় এআর-ভিআরের বাজারে প্রায় ৬০ শতাংশ হিস্যা নিয়ে এগিয় আছে মেটা।
আইডিসি বলছে, বাজারে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতার ফলে হেডসেটগুলো এখন আরো হালকা, উন্নত ও সাশ্রয়ী হয়েছে। ফলে এগুলোর ব্যবহারও বাড়ছে দ্রুত।
ভিআর ও এআর উভয় প্রযুক্তিই থ্রিডি চিত্রের মাধ্যমে ‘কৃত্রিম বাস্তবতার’ উন্নত অভিজ্ঞতা প্রদান করে, তবে কাজের পদ্ধতি অনেকটাই ভিন্ন। ভার্চুয়াল রিয়ালিটি সম্পূর্ণভাবে একটি ডিজিটাল জগতে নিয়ে যায়। এজন্য প্রয়োজন পড়ে হেডসেটের। প্রযুক্তিবাজার এখন আরো বাস্তবসম্মত ও বহুমুখী অভিজ্ঞতার দিকে ঝুঁকছে জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ব্যবস্থাপক জিতেশ উবরানি বলেন, ‘যদিও হেডসেটের বাজারে এখনো শীর্ষে আছে মেটা, তবে ভিচার ও এক্সরিয়ালের মতো নতুন ব্র্যান্ডগুলো আকর্ষণীয় ডিজাইন ও উন্নত ব্যবহার অভিজ্ঞতা দিয়ে গ্রাহকদের মন জয় করছে। আগামী দিনে বাজারে বড় প্রবৃদ্ধি আসবে মিক্সড রিয়ালিটি ও এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে। বিশেষ করে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অ্যান্ড্রয়েড-ভিত্তিক এক্সআর প্লাটফর্ম আরো পরিপক্ব হবে।’
বছরের প্রথম তিন মাসে শীর্ষ পাঁচ নির্মাতার মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থান দখল করেছে এক্সরিয়েল। এ অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে ‘ওয়ান’ সিরিজের শক্তিশালী বিক্রয়।
অন্যদিকে গত বছরের তুলনায় ভিচারের বিক্রি বেড়েছে ২৬৮ দশমিক ৪ শতাংশ। এর বিপরীতে, ‘অন্যান্য’ বিভাগে থাকা ছোট বা অপরিচিত ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি কমেছে ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, ক্রেতারা এখনো সুপ্রতিষ্ঠিত ও উদীয়মান নেতৃত্বাধীন কোম্পানিগুলোকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। কারণ এসব ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কৌশল আছে।
এদিকে আগামী দিনে এআর-ভিআর প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন আসছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইডিসি। সংস্থাটির মতে, সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল রিয়ালিটি বা ভিআর হেডসেটের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। এর জায়গা দখল করবে মিক্সড রিয়ালিটি বা এমআর ও এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি এআর ডিভাইস। কারণ এগুলো আরো পরিমার্জিত ও উন্নত অভিজ্ঞতা দেবে। তবে এমআর প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও এটি মূলত সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য গেম খেলা ও কনটেন্ট দেখার মাধ্যম হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি বিভাগের স্মার্ট গ্লাসগুলো ভবিষ্যতে সাধারণ ব্যবহারকারী ও করপোরেট খাত উভয়ের মধ্যেই জনপ্রিয়তা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইডিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মিক্সড রিয়ালিটি ডিভাইসের বিক্রি চলতি বছরের ৩৩ লাখ ইউনিট থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে দেড় কোটি ছাড়াবে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শুল্কনীতির কারণে সরবরাহ ও অগ্রাধিকারের এ পূর্বাভাস কিছুটা কমানো হয়েছে। অন্যদিকে এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি ডিভাইসের বিক্রিও ২০২৫ সালের ২২ লাখ ইউনিট থেকে চার বছরে ৮৬ লাখে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী স্মার্ট গ্লাসের বিক্রি গত বছর বেড়েছে ২১০ শতাংশ। প্রথমবারের মতো ডিভাইসের বিক্রি ৩০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে গেছে। এ প্রবৃদ্ধির মূল চালক ছিল রে-ব্যান মেটা স্মার্ট গ্লাসের উচ্চ চাহিদা।










