কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে বড় ধরনের চাপ পড়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের ওপর। ফলে পরিবেশবান্ধব হওয়ার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে গত পাঁচ বছরে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

গুগলের সাম্প্রতিক টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির মোট কার্বন নিঃসরণ ৫১ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৪ সালেই নিঃসরণ বেড়েছে ১১ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সাপ্লাই চেইন সম্পর্কিত স্কোপ-৩ নিঃসরণ, যা এক বছরে ২২ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, এক বছরে গুগলের বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে ২৭ শতাংশ। মূলত ডাটা সেন্টারগুলোয় এআই মডেল চালানোর জন্য বেশি বিদ্যুৎ প্রয়োজন হওয়ায় এ খরচ বেড়েছে। জেমিনি ও ওপেনএআইয়ের জিপিটি-৪-এর মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল পরিচালনায় গুগলের ডাটা সেন্টারগুলো বড় ভূমিকা রাখছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) হিসাবে, ২০২৬ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ডাটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার দ্বিগুণ হয়ে এক হাজার টেরাওয়াট ঘণ্টা ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বর্তমানে জাপানের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার সমান। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেমি অ্যানালাইসিসের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ডাটা সেন্টারগুলো বিশ্বের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহার করবে।

গুগল জানিয়েছে, বিদ্যমান বিদ্যুৎ অবকাঠামো থেকে কম-কার্বন শক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছোট মডিউলার পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর (এসএমআরএস) ও উন্নত ভূতাপীয় প্রযুক্তি দ্রুতগতিতে বাণিজ্যিকভাবে চালু না হওয়ায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষায়, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছা কঠিন হবে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে গুগল। ২০১০ সাল থেকে ১৭০টিরও বেশি চুক্তির মাধ্যমে ২২ গিগাওয়াট পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই নতুন করে ২ দশমিক ৫ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। এ সময় একই সঙ্গে ৮ গিগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ কিনতে নতুন চুক্তি সই করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়ের আগেই সব নতুন গুগল পণ্যের প্লাস্টিকমুক্ত প্যাকেজিং নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে এআই থেকে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণ নিয়ে উদ্বেগের মাঝেও গুগল বলছে, এআই-ই ভবিষ্যতে পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কোম্পানির লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতি বছর এক গিগাটন কার্বন নিঃসরন কমাতে সহায়তা করা। এআই-ভিত্তিক সলিউশন দিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, সঠিক স্থানে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং শহরের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির মতো কাজ করছে গুগল।