কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে বিশ্বের প্রথম কার্যকর ভাইরাসের জিনোম তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা। কৃত্রিমভাবে তৈরি এ ভাইরাসটি ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমণ ঘটিয়ে সেটিকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
জানা গেছে, এ সংক্রান্ত পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে ব্যাক্টেরিওফেজ ফাই-এক্স-১৭৪ ভাইরাস। এটি ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমণ ঘটায়। ভাইরাসটির জিনোম ছোট হলেও বেশ জটিল। এতে রয়েছে ৫ হাজার ৩৮৬টি ডিএনএ অক্ষর ও ১১টি জিন। ১৯৭৭ সালে এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ সিকোয়েন্স করা জিনোম। ২০০৩ সালে প্রথমবার কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়। আর এবারই প্রথম এআই দিয়ে এর নকশা করা হলো।
গবেষকেরা ‘ইভো’ নামের একটি জিনোমিক ভাষা মডেল ব্যবহার করেছেন। ভাইরাসটির পরিবারের হাজারো জিনোম বিশ্লেষণ করে এ মডেল তৈরি করা হয়। ইভো হাজারো নকশা তৈরি করে। পরীক্ষাগারে এ ধরনের শত শত নকশা তৈরি করা হয় এবং ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ায় প্রবেশ করানো হয়।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, মোট তৈরি ৩০২টি নকশার ১৬টি কার্যকর হয়েছে। এতে পাওয়া গেছে শত শত নতুন মিউটেশন, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এর মধ্যে একটি নকশায় ডিএনএ প্যাকেজিং প্রোটিন এর সঙ্গে কিছু দিক থেকে মেলে, এমন ভাইরাস থেকে নেয়া হয়। এর আগে চেষ্টা করেও আর এমনটা করা সম্ভব হয়নি। ক্রায়ো-ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে দেখা গেছে, এ প্রোটিন ভাইরাসের খোলসে সঠিকভাবে বসেছে।
গবেষকেরা জানান, ইভোকে প্রশিক্ষণ দিতে ব্যবহার করা হয়েছে ২০ লাখ ভাইরাসের তথ্য। পরীক্ষায় তৈরি ভাইরাসগুলোর মধ্যে ৩৯২টি নতুন মিউটেশন পাওয়া গেছে। এমনকি যখন ব্যাকটেরিয়া প্রাকৃতিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তখনো এআই তৈরি ভাইরাস কয়েক দিনের মধ্যেই সেই প্রতিরোধ ভেদ করতে সক্ষম হয়েছিল।
গবেষকেরা আরো জানিয়েছেন, এতদিন এআই দিয়ে আলাদা প্রোটিন বা ছোট আকারের অসংখ্য জিন তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ জিনোম তৈরি অনেক বেশি জটিল। কারণ এতে অনেকগুলো জিন ও নিয়ন্ত্রণ উপাদান থাকে। আর এদের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য না থাকলে কোনো জীব টিকে থাকতে পারে না।










