জীবন্ত কোষ থেকে ক্ষুদ্রাকৃতির ‘মস্তিষ্ক’ তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এসব মস্তিষ্ক ল্যাবে ইলেক্ট্রোডে যুক্ত করে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ গবেষণা প্রক্রিয়ার নাম বায়োকম্পিউটিং। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ‘জৈবিক মস্তিষ্ক’ ডাটা সেন্টারের সার্ভারের মতো কাজ করতে পারে এবং এতে শক্তি খরচ বর্তমান প্রযুক্তির তুলনায় অনেক কম হবে। খবর বিবিসি।

কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সঙ্গে সবাই কম-বেশি পরিচিত। কিন্তু বায়োকম্পিউটিংয়ে ব্যবহার হয় ‘ওয়েটওয়্যার’। অর্থাৎ জীবন্ত কোষ দিয়ে তৈরি উপাদান। এ প্রক্রিয়ায় স্টেম সেল থেকে নিউরন তৈরি করে ছোট বলের মতো গুচ্ছ বানানো হয়। এগুলোকে বলা হয় অর্গানোয়েড বা ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক।

পরীক্ষায় এগুলোকে সংযুক্ত করা হয় ইলেক্ট্রোডের সঙ্গে। ইলেক্ট্রোড হলো এক ধরনের তার বা সেন্সর, যা দিয়ে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠানো ও গ্রহণ করা যায়। ফলে ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক বৈদ্যুতিক সংকেত নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম হয়।

সুইজারল্যান্ডের ফাইনালস্পার্ক ল্যাব এ গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। তারা জাপানের একটি ক্লিনিক থেকে মানব ত্বকের কোষ থেকে তৈরি স্টেম কোষ কিনে আনে। ওই কোষ দিয়ে তৈরি করা হয় অর্গানোয়েড বা ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক। কয়েক মাস ধরে এগুলো বৃদ্ধি পেতে থাকে। তারপর ইলেক্ট্রোডে সংযুক্ত করা হয়। সাধারণ কীবোর্ড সংকেত পাঠানো হলে স্ক্রিনে তার প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য হলো এ কোষগুলোকে ধীরে ধীরে শেখার ক্ষমতা অর্জন করতে দেয়া। যেন একসময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো কাজ করতে পারে।

তবে বড় সমস্যা হলো অর্গানোয়েড বা ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের টিকে থাকা। মানুষের মস্তিষ্কে রক্তনালী থাকে, যা কোষে পুষ্টি জোগায়। কিন্তু অর্গানোয়েডে কোনো রক্তনালী নেই। তাই এগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বর্তমানে সর্বোচ্চ চার মাস পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। কখনো কখনো এগুলো মরে যাওয়ার আগে অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এগুলো মূলত ভিন্ন উপাদানে তৈরি এক ধরনের কম্পিউটার।

শুধু সুইজারল্যান্ড নয়, বিশ্বজুড়েই চলছে এ নিয়ে পরীক্ষা। অস্ট্রেলিয়ার কোর্টিক্যাল ল্যাবস কৃত্রিম নিউরন দিয়ে পুরনো পং গেম খেলিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় অর্গানোয়েড ব্যবহার করছে আলঝেইমার ও অটিজমের মতো রোগ গবেষণায়।

গবেষকরা বলছেন, বায়োকম্পিউটিং সিলিকন চিপকে প্রতিস্থাপন করবে না। বরং এটি সম্পূরক প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করবে। এখনো বায়োকম্পিউটিং প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তবে এতে শক্তি সাশ্রয়ী ও নতুন ধরনের এআই তৈরির বড় সম্ভাবনা রয়েছে। একদিন হয়তো বাস্তবেই বিজ্ঞানের কল্পকাহিনীর মতো জীবন্ত কম্পিউটার ব্যবহার করা সম্ভব হবে।