উদ্ভিদ জীবনের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় ফ্লোরা ইনকগনিটা নামের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করছে একদল গবেষক। লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয় ও জার্মান সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটিভ বায়োডাইভারসিটি রিসার্চের গবেষকদের মাধ্যমে তৈরি অ্যাপটির উদ্দেশ্য ব্যবহারকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে বন্য উদ্ভিদ শনাক্ত করার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য গবেষণাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি পরিবেশগত পর্যবেক্ষণের একটি বড় ডাটাবেস তৈরি করা। খবর টেকটাইমস।

লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কারিন মোরা বলেন, ‘‌বৈশ্বিক তাপমাত্রার পরিবর্তনে আমরা উদ্ভিদের জীবনচক্রে পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। অ্যাপটি সাধারণ মানুষের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের তথ্য সংগ্রহে গবেষকদের সহায়তা করবে। ফ্লোরা ইনকগনিটার মতো অ্যাপ ব্যবহারকারীদের একটি সাধারণ ফটোর সাহায্যে দ্রুত বন্য উদ্ভিদ শনাক্ত করা, টাইমস্ট্যাম্প ও অবস্থান রেকর্ড করবে। এটি গবেষকদের বিভিন্ন অঞ্চল ও মৌসুম অনুযায়ী উদ্ভিদের আচরণ ট্র্যাক করতেও সহায়তা করবে।’

গবেষকদের তৈরি অ্যাপটির অ্যালগরিদম চালু হওয়ার পর থেকে ফ্লোরা ইনকগনিটা শুধু জার্মানিতে প্রায় তিন হাজার প্রজাতির উদ্ভিদের ডাটা রেকর্ড করেছে। গবেষক কারিন মোরা বলেন, ‘‌আমরা লক্ষ করেছি নদীর নিকটবর্তী গাছপালাগুলো পার্বত্য অঞ্চলের চেয়ে ভিন্নভাবে আচরণ করে। এছাড়া অ্যাপটি শীত মৌসুমে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকে বাধাগ্রস্ত করেনি।’

গবেষকরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পরিবেশ ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে, যে কারণে ফ্লোরা ইনকগনিটার মতো টুল এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সাধারণ নাগরিকদের কাজে লাগিয়ে গবেষকরা উদ্ভিদ জগৎ কীভাবে পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে সে সম্পর্কে ডাটা দিতে সাহায্য করছে। বর্তমানে ফ্লোরা ইনকগনিটা অ্যাপটি আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল উভয় প্লাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি জলবায়ু পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিবর্তন দৈনন্দিন জীবনযাপনকে বদলে দেবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে একদিকে সমুদ্রের পানি বেড়ে বহু এলাকা প্লাবিত হবে। অন্যদিকে তৈরি হবে সুপেয় পানির সংকট, খাদ্য উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়বে। কোনো কোনো অঞ্চল বিপজ্জনক মাত্রায় উষ্ণ হয়ে পড়বে। এতে সেসব জায়গা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। এমন বাস্তবতায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কাজ করছে পুরো বিশ্ব।