কম্পিউটার বা পিসিতে দীর্ঘ সময় কাজ করার ক্ষেত্রে কিবোর্ড শর্টকাট অনেকটা আশীর্বাদের মতো কাজ করে। দ্রুত কাজ সম্পাদনের জন্য মাউস ব্যবহার না করেই উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে বেশকিছু গোপন শর্টকাট বা হটকি আছে। এগুলো একদিকে সময় বাঁচায়, অন্যদিকে কাজের গতিও বাড়ায়। এমন কিছু কার্যকর শর্টকাটের কথা জেনে নেয়া যাক—
উইন্ডো স্ন্যাপিং ও সাইজ নিয়ন্ত্রণ
যখনই কোনো উইন্ডোকে স্ক্রিনের বাম বা ডান পাশে নিতে উইন্ডোজ+ বাম/ডান অ্যারো চাপতে হবে। এতে মুহূর্তেই উইন্ডো ডানে বা বামে স্ন্যাপ হয়ে যাবে। একইভাবে উইন্ডোজ+ওপরে বা নিচের অ্যারো চাপলে উইন্ডোটি ফুলস্ক্রিন হবে বা আগের মাপ ফিরে আসবে অথবা দ্বিতীয়বার চাপলে উইন্ডোটি মিনিমাইজ হয়ে যাবে। এসব শর্টকাট ব্যবহার করে উইন্ডো ব্যবস্থাপনা সহজ ও গোছালো হয়।
মাল্টি-মনিটরে দ্রুত উইন্ডো স্থানান্তর
যদি ডেস্কটপে একাধিক মনিটর থাকে, তবে উইন্ডোজ+শিফট+বাম/ডান অ্যারো ব্যবহার করে বর্তমান অ্যাকটিভ উইন্ডোকে পাশের মনিটরে কোনো মাপ বদল না করেই সরিয়ে নেয়া যায়। ফলে মনিটরজুড়ে কাজ করতে সুবিধা হয়।
এক চাপেই ডেস্কটপ দেখা ও মিনিমাইজ
ক্লাটার থেকে মুক্তি পেতে উইন্ডোজ+ডি (D) চাপুন। একবারে সব উইন্ডো লুকিয়ে ডেস্কটপ দেখা যাবে, আবার সেগুলো ফিরিয়ে আনতে একই শর্টকাট চাপলেই হবে। অথবা উইন্ডোজ+এম (M) চাপলে সব উইন্ডো মিনিমাইজ হবে, কিন্তু ফিরিয়ে আনতে উইন্ডোজ+শিফট+এম চাপতে হবে।
এক ঝলকে ডেস্কটপ দেখতে
শুধু এক মুহূর্তের জন্য ডেস্কটপ দেখতে হলে উইন্ডোজ+, (কমা) দিলেই সব উইন্ডো স্বচ্ছ হয়ে যাবে। কি ছেড়ে দিলে সব আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। এতে অপ্রয়োজনীয় মিনিমাইজ এড়ানো যায়।
ভার্চুয়াল ডেস্কটপ তৈরি
একাধিক ভার্চুয়াল ডেস্কটপ ব্যবহার করে কাজ ও ব্যক্তিগত কাজে আলাদা আলাদা পরিবেশ তৈরি করা যায়। উইন্ডো+কন্ট্রোল+ডি দিয়ে নতুন ডেস্কটপ খোলা যায়। উইন্ডো+কন্ট্রোল+বাম/ডান অ্যারো দিয়ে সুইচ আর কাজ শেষ হলে উইন্ডো+কন্ট্রোল+এফ৪ (F4) দিয়ে ডেস্কটপ বন্ধ করা যায়। এভাবে এক স্ক্রিনেই মিলবে একাধিক ডেস্কটপ অভিজ্ঞতা।
টাস্ক ভিউ দিয়ে ওভারভিউ
যদি ভার্চুয়াল ডেস্কটপ বা খোলা উইন্ডোর অবস্থান ভালোভাবে দেখতে চান, উইন্ডো+ট্যাব চাপলেই টাস্ক ভিউ খুলে সব উইন্ডো ও ডেস্কটপের থাম্বনেইল দেখা যাবে, যেখানে থেকে সরাসরি উইন্ডো সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
নির্দিষ্ট অংশের স্ক্রিনশট
পুরো স্ক্রিনের বদলে কোনো নির্দিষ্ট অংশের স্ক্রিনশট নিতে উইন্ডো+শিফট+এস (S) চাপলে স্নিপিং টুল চালু করে সহজেই স্ক্রিনের যে কোনো অংশ কেটে নেয়া যাবে। ক্যাপচার করা ছবিটি সরাসরি ক্লিপবোর্ডে কপি হয়ে যায়, তাই সরাসরি পেস্ট করা যায়, যা সময় বাঁচায়।
অ্যাপের মধ্যে দ্রুত সুইচ বা পরিবর্তন
অল্টার+ট্যাব দিয়ে ইচ্ছেমতো অ্যাপে সুইচ করা যায় আর অল্টার+ইএসসি (esc) ব্যবহার করলে খোলা ট্যাবগুলো সামনে আসবে।
ক্লিপবোর্ড হিস্ট্রি
উইন্ডোজ স্বাভাবিকভাবে শুধু শেষ কপি করা তথ্যই স্মরণ করে। কিন্তু উইন্ডোজ+ভি (V) চাপলেই আগে কপি করা সব আইটেমের তালিকা দেখা যায় এবং পছন্দমতো পেস্ট করা যায়। গুরুত্বপূর্ণ আইটেম পিনও করে রাখা যায়, যাতে নতুন কপি করলেও হারিয়ে না যায়। প্রয়োজনে সেটিংস থেকে ফিচারটি চালু করে নিতে হবে। সেজন্য কম্পিউটারের সেটিংসে গিয়ে সিস্টেম থেকে ক্লিপবোর্ড হিস্ট্রি চালু করে নিলেই হয়ে যাবে।
এ শর্টকাটগুলো স্ক্রিন ম্যানেজমেন্ট, মাল্টিটাস্কিং আর দ্রুত কাজ করতে অনেক সাহায্য করে। শর্টকাটগুলো নিয়মিত ব্যবহারে ডেস্কটপ ব্যবস্থাপনা হয় আরো সহজ ও গতিময়।
এমইউও অবলম্বনে










