বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কিত নীতিমালা গত তিন বছরে বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীন নিজেদের মতো করে নিয়ম তৈরি করায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)। খবর নিক্কেই এশিয়া।

ওইসিডির ডাটাবেজ অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত বিশ্বে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি এআই নীতিমালা, নির্দেশিকা ও আইন গৃহীত হয়েছে। ২০২২ সালে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি চালুর পর জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির বিস্তার শুরু হলে নীতিমালার সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। যদিও এআই নীতিমালার সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু দেশগুলো একসঙ্গে মিলিতভাবে কাজ করতে পারছে না।

এআইয়ের দ্রুত বিকাশ ও ব্যাপক ব্যবহারের ফলে প্রযুক্তিটি উপকারের পাশাপাশি মানবজীবনে নানা ঝুঁকি ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এআই ব্যবহারযোগ্য হলেও এর দ্রুত প্রসারের কারণে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও নৈতিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ধাপে ধাপে কঠোর আইন কার্যকর করছে। সেখানে নীতিমালার সংখ্যা ১০-২০ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও বড় কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ফলে জেনারেটিভ এআই খাতে নেতৃত্বের পাশাপাশি নীতি প্রণয়নেও উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোই এখন এগিয়ে আছে।

বিশ্বজুড়ে এআই নীতিমালার প্রায় ৩০ শতাংশ এসেছে জি-৭ ভুক্ত দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে। এসব দেশ এককভাবে এআই অবকাঠামো তৈরিতে বিনিয়োগ করছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ভুয়া তথ্য বা ভুল ব্যবহার রোধে কোম্পানিগুলোর জন্য নিয়ম তৈরির পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণের দেশগুলো এআই উন্নয়ন ও ব্যবহার উভয় দিকেই পিছিয়ে আছে।

জাতিসংঘের ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্সের তথ্যানুযায়ী, এআই নীতিনির্ধারণ আলোচনায় ১১৮টি দেশ অনুপস্থিত। উন্নত দেশগুলোর দুই-তৃতীয়াংশের এআই-বিষয়ক জাতীয় কৌশল ও পরিকল্পনা থাকলেও উন্নয়নশীল দেশের এক-তৃতীয়াংশেরও কম দেশে এ ধরনের উদ্যোগ রয়েছে।

এআই-বিষয়ক ঝুঁকি পর্যবেক্ষণের জন্য সম্প্রতি জি৭ একটি কাঠামো তৈরি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের প্রতিযোগিতা ও বিভাজনের কারণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য প্রায় ৬০টি দেশের সমর্থনে প্যারিসে ঘোষিত ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ এআই উন্নয়ন ঘোষণায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘বৈশ্বিক এআই আধিপত্য’ অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এতে মার্কিন এআই প্রযুক্তি রফতানি বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে। ট্রাম্প পূর্বসূরি জো বাইডেনের নিরাপদ এআই উন্নয়ন প্রচারের নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছেন।

অন্যদিকে চীন গত জুলাইয়ে সাংহাইয়ে আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলনে চীন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সমানতালে নিয়ম তৈরি করার প্রতিযোগিতায় তারা প্রস্তুত।