আন্তর্জাতিক বাজারে গত বছরের তুলনায় পিসির রফতানি ১৫ শতাংশ কমেছে। তবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে পিসি বিক্রি বেড়েছে ৮ শতাংশ। মহামারী-পরবর্তী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার জেরে চাহিদা হ্রাসের প্রভাব পড়েছে প্রযুক্তিপণ্যটির বাজারে। কাউন্টার পয়েন্ট পিসি ট্র্যাকার রিসার্চের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে। 

দ্বিতীয় প্রান্তিকে পিসি উৎপাদন কারখানা পর্যায়ে স্বাভাবিক ছিল। প্রথম প্রান্তিকে বার্ষিক ২৮ শতাংশ রফতানি কমে যাওয়ার পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরেক দফা রফতানি কমেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে রফতানি কমাটা কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। বিপরীতে ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকের পর প্রথমবারের মতো প্রান্তিক হারে বেড়েছে রফতানি। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় বেড়েছে বিক্রি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে রফতানির সংখ্যা বৃদ্ধিকে পিসির বাজার সম্প্রসারণের ধাপ হিসেবে গণ্য করতে চান বিশ্লেষকরা। চলতি বছরের দ্বিতীয় ভাগে গিয়ে পিসির বাজার পুনরুদ্ধার ঘটতে পারে। 

রফতানির হিসাবে প্রথম স্থানে রয়েছে লেনোভো। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমেছে ব্যবসা। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে সংকুচিত হয়েছে বিক্রি। তবে পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার জন্য আশাবাদী প্রতিষ্ঠানটি। ২০২১ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে পিসির বাজারে এইচপির হিস্যা ছিল ২২ শতাংশ। বাজার ব্যবস্থাপনা ও কারখানা পর্যায়ে গতির কারণে ক্রয়াদেশে স্থিতিশীলতা রাখতে পেরেছে। প্রান্তিক হিসাবে ডেলের বিক্রি উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। কিন্তু বার্ষিক হিসাবে কমেছে। এর প্রধান কারণ চাহিদা কমে যাওয়া।    

গত বছরের তুলনায় অ্যাপলের বিক্রি বেড়েছে। বাড়ার প্রধান কারণ নতুন পণ্য বাজারে নিয়ে আসা। তাছাড়া ২০২২ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রি তুলনামূলক কম থাকার কারণে পার্থক্য আরো বেড়েছে। নেতিবাচক বিষয়গুলো চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রি কমে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা পালন করছে। 

যদিও মহামারী-পরবর্তী বিশ্বে ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকে প্রথমবারের মতো প্রান্তিক হারে বিক্রি বেড়েছে পিসির। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত নয়। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রি বাড়ার প্রত্যাশা রয়েছে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা মন্থর গতিতে বাড়ছে। দ্বিতীয়ার্ধে পিসির বাজারে নতুন কিছু পণ্য প্রবেশ করবে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসম্পন্ন। স্বাভাবিকভাবেই নতুন মাত্রা লাভ করছে পিসির বাজার। ফলে মহামারী-পরবর্তী পিসির বাজার পুনরায় মহামারীকালীন সময়ের দিক ধাবিত হচ্ছে। 

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেই পিসির রফতানি কভিড-১৯-পূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী প্রান্তিকগুলোয় বার্ষিক ভিত্তিতে বিক্রি কমতে পারে। ২০২৪ সালের মধ্যে পিসি কারখানাগুলো একটা সন্তোষজনক পরিস্থিতিতে পৌঁছাব। বিশেষ করে বছরের শেষ দুই প্রান্তিকে অভিযোজিত হবে। পুনঃস্থাপনের চাহিদা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর মডেল কিংবা নতুন সংস্করণগুলো বাজারে নতুন মাত্রা তৈরি করতে পারে।