অত্যাধুনিক ফিচার, আপগ্রেড ও নানা সুযোগ-সুবিধার কারণে অনেকেই নতুন ফোন বাজারে আসতেই পুরনো ফোনটি প্রতিস্থাপন করে সাম্প্রতিক মডেল দিয়ে। আগের ফোনটি সচল ও ভালো থাকার পরও বেশির ভাগ সময় ডিভাইসটির জায়গা হয় রুমের কোনো একটি ড্রায়ারে। তবে পুরনো ফোনটি আবার ব্যবহারযোগ্য করতে অনেক সৃজনশীল ও কার্যকর উপায় রয়েছে। ফেলে রাখা অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসকে নতুন জীবন দেয়ার কিছু ধারণা তুলে ধরেছে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট মেকইউজঅব-

সিকিউরিটি ক্যামেরা অথবা বেবি মনিটর

দামি নিরাপত্তা ক্যামেরা বা বেবি মনিটরের খরচ বাঁচাতে পারে অব্যবহৃত পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন। বেবিক্যাম বা আইপি ফোন ক্যামেরা অ্যাপ ডাউনলোড করে ফোনকে বেবি মনিটর বা আইপি ওয়েব ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এসব অ্যাপ লাইভ ভিডিও স্ট্রিম ও অডিও শোনার পাশাপাশি দূর থেকে ছবি, ভিডিও ক্যাপচার করার সুযোগ দেয়। একবার অ্যাপ সেটআপ হয়ে গেলে শুধু ফোনটি একটি স্থিতিশীল জায়গায় রাখতে হবে, যেন মনিটর করতে চাওয়া এলাকা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ব্যাটারি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা এড়াতে ফোনটি চার্জারে রেখে ব্যবহার করতে হবে।

ই-বুক রিডার

পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে একটি ই-বুক রিডারে পরিণত করতে পারে বইপ্রেমীরা। কিন্ডল, গুগল প্লে বুকস বা মুন প্লাস রিডার অ্যাপ ডাউনলোড করে সহজেই কাজটি করা যায়। এসব অ্যাপ বিভিন্ন ফরম্যাট সমর্থন করে এবং বই, ম্যাগাজিন, ও কমিক্সের বিশাল লাইব্রেরিতে প্রবেশের সুযোগ দেয়। এছাড়া চোখের চাপ কমাতে ও ব্যাটারি সাশ্রয় করতে গ্রেস্কেল মোড চালু করা যায়।

গেমিং কনসোল

গেমিং কনসোল বা পিসির সঙ্গে হাতের মুঠোয় থাকা গেমিং ডিভাইসের সুবিধার তুলনা করা যায় না। পুরনো ফোনকে গেমিং কনসোল হিসেবে ব্যবহার করে প্রিয় গেমগুলো খেলা যায় সহজেই, তাও আবার মূল ফোনের ব্যাটারি নিঃশেষিত না হয়ে। প্লে স্টোর থেকে প্রিয় সব গেম ডাউনলোড করা যাবে অথবা এক্সবক্স ক্লাউড গেমিং, এনভিডিয়া জিফোর্স নাও বা স্টিম লিংকের মতো ক্লাউড গেমিং পরিষেবা ব্যবহার করে উচ্চমানের গেম খেলা উপভোগ করা যায়। ফলে আর শক্তিশালী হার্ডওয়্যার প্রয়োজন হয় না। ক্ল্যাসিক বা ক্যাজুয়াল গেম পছন্দ হলে রেট্রো গেমিংয়ের জন্য অ্যান্ড্রয়েড অ্যামুলেটর ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডিজিটাল ক্লক ও ফটো ফ্রেম

পুরনো ফোনটি যদি গেমিংয়ের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী না হয়, তাহলে ডিভাইসটি বেডসাইডে রাখা একটি কার্যকর ও স্টাইলিশ ঘড়িতে পরিণত করা যায়। এর জন্য ফ্লিপ ক্লক অ্যাপ ডাউনলোড করে এবং ফোনটি একটি স্ট্যান্ডে রাখলেই যথেষ্ট। আরো ফিচার চাইলে ফটু (Fotoo) অ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন ক্লাউড স্টোরেজ থেকে ছবি এনে ট্রানজিশন ইফেক্ট সেটসহ স্লাইড শো ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও যোগ করা যায়।

বহনযোগ্য স্টোরেজ

অনেক পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ডিসপ্লে ভাঙা বা ব্যাটারি লাইফ দুর্বল থাকে। আবার প্রসেসিং পাওয়ারও কম থাকে। তবুও এটি একটি পোর্টেবল বা বহনযোগ্য স্টোরেজ ডিভাইস হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। যদি এটি অত্যন্ত পুরনো না হয়ে থাকে, তবে ডিভাইসে যথেষ্ট পরিমাণ ইনটার্নাল স্টোরেজ থাকার কথা। এ স্টোরেজ ছবি, ডকুমেন্ট বা অন্যান্য ফাইল সংরক্ষণে ব্যবহার করা যায়।

জিপিএস ট্র্যাকার

পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে নির্ভরযোগ্য জিপিএস ট্র্যাকার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ফোনে থাকা ফাইন্ড মাই ডিভাইস ফিচারের মাধ্যমে গাড়ির অবস্থান ট্র্যাক করা যায়। এছাড়া দ্রুত যেন ব্যাটারি শেষ না হয়ে যায়, সেজন্য একটি ছোট পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়।