কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য একটি নতুন আয়ের সুযোগ চালু করেছে ফেসবুক। এখন থেকে পাবলিক স্টোরির ভিউ থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন তারা। এ মনিটাইজেশন সুবিধা ফেসবুক কনটেন্ট মনিটাইজেশন প্রোগ্রামের সদস্যদের জন্য বৈশ্বিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। খবর টেকক্রাঞ্চ।

ফেসবুক জানিয়েছে, নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে ক্রিয়েটররা নিয়মিত নিজেদের তৈরি ও শেয়ার করা কনটেন্ট থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন, যদি তারা এটি তাদের ফেসবুক স্টোরিতে প্রকাশ করেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ক্রিয়েটর একটি রেসিপি ভিডিও বা রিল তৈরি করেন, তবে সেটির একটি অংশ স্টোরিতে শেয়ার করেও আয়ের সুযোগ পাবেন। এছাড়া তারা দৈনন্দিন জীবনের মুহূর্তগুলো স্টোরিতে শেয়ার করেও উপার্জন করতে পারবেন।

কোম্পানির একজন মুখপাত্র টেকক্রাঞ্চকে ই-মেইলে জানান, স্টোরিজের পেমেন্ট কনটেন্টের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ হবে এবং নির্মাতারা নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিউয়ের সীমা ছাড়াই আয় করতে পারবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, স্টোরির মাধ্যমে মনিটাইজেশন চালু করে ফেসবুক ক্রিয়েটরদের জন্য একটি নতুন আয়ের পথ খুলে দিচ্ছে এবং তাদের আরো বেশি কনটেন্ট তৈরি করতে উৎসাহিত করছে। এ উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে যখন মেটা টিকটকের ক্রিয়েটরদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে আনতে নগদ বোনাস, কনটেন্ট চুক্তিসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

যেসব ক্রিয়েটর ফেসবুক কনটেন্ট মনিটাইজেশন প্রোগ্রামের সদস্য ও কনটেন্ট মনিটাইজেশন চালু করেছেন, তাদের আলাদাভাবে কিছু করতে হবে না। স্টোরি মনিটাইজেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সক্রিয় হবে।

ফেসবুক গত বছর তাদের ইন-স্ট্রিম অ্যাড, অ্যাডস অন রিলস ও পারফরম্যান্স বোনাস প্রোগ্রামগুলোকে একত্র করে কনটেন্ট মনিটাইজেশন প্রোগ্রাম চালু করে। পরীক্ষামূলকভাবে কিছু নির্বাচিত ক্রিয়েটরের জন্য স্টোরি মনিটাইজেশন চালুর পর এখন এটি প্রোগ্রামের সব সদস্যের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

ফেসবুক গত অক্টোবরে জানায়, ২০২৪ সালে ক্রিয়েটররা প্লাটফর্ম থেকে ২০০ কোটির বেশি ডলার আয় করেছে, যেখানে রিলস ও অন্যান্য স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওর পেমেন্ট ৮০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৭ সালে মনিটাইজেশন চালুর পর থেকে ফেসবুক ৪০ লাখের বেশি ক্রিয়েটরকে অর্থ প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ৩০৭ কোটির বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেসবুক। ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের অনলাইন রেফারেন্স লাইব্রেরি ডাটাপেট্রলের তথ্যানুযায়ী, ফেসবুক সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন ২৫-৩৪ বছর বয়সীরা, যা ফেসবুকের মোট ব্যবহারকারীর প্রায় ৩০ শতাংশ।