অনেক বছর ধরেই কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কাছে ডিভাইস সুরক্ষার জন্য থার্ড-পার্টি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার ছিল এক প্রকার বাধ্যতামূলক। কেউ বেছে নিতেন পেইড সংস্করণ, আবার কেউ ভরসা রাখতেন ফ্রি ভার্সনের ওপর। তবে অনেকের মতে, এসব অ্যান্টিভাইরাস সুরক্ষা দিলেও সঙ্গে এনেছে নানা জটিলতা। দিনের পর দিন পপ-আপ আর নোটিফিকেশনে বিরক্ত করা, স্ক্যান চালু হলে পুরো কম্পিউটারকে ধীরগতি করে ফেলা, আর নতুন প্যাকেজ কেনার জন্য অবিরাম তাগাদা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উইন্ডোজের মধ্যেই এখন এমন সব নিরাপত্তা ফিচার রয়েছে, যা বাড়তি খরচের প্রয়োজনীয়তাকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলেছে। আগে আলাদা সফটওয়্যারের জন্য অর্থ খরচ করতে হলেও এখন সিস্টেমে থাকা উইন্ডোজ সিকিউরিটিই সেই কাজ করে দিচ্ছে নির্ভরযোগ্যভাবে।
উইন্ডোজ সিকিউরিটি ভাবনার চেয়েও শক্তিশালী
পরিবর্তনের বাঁকটা এসেছিল উইন্ডোজ ১১-এর হাত ধরে। এ সংস্করণে উইন্ডোজ সিকিউরিটি এক নতুন রূপে সামনে এসেছে। আগে যার নাম ছিল উইন্ডোজ ডিফেন্ডার—প্রতিটি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে বিনামূল্যে যুক্ত থাকলেও ফিচারটি ঘিরে অভিযোগের শেষ ছিল না। এরপর নিয়মিত আপডেট ও নতুন ফিচার যোগ করতে করতে মাইক্রোসফট ধীরে ধীরে ডিফেন্ডারকে গড়ে তুলেছে এক শক্তিশালী নিরাপত্তা দেয়ালে। এখনকার উইন্ডোজ সিকিউরিটি শুধু সহায়ক বা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, বরং বড় সাইবার সিকিউরিটি টুল, যা নির্ভয়ে দাঁড়াতে পারে বাজারে থাকা যেকোনো দামি অ্যান্টিভাইরাসের পাশেই।
উইন্ডোজ সিকিউরিটি স্ক্রিনের আড়ালে নীরবে কাজ করে, রিয়েল-টাইম প্রটেকশনের মাধ্যমে নজর রাখে যেকোনো হুমকির দিকে। ক্লাউডভিত্তিক ফিচারের কারণে নতুন নতুন সাইবার হুমকির সঙ্গেও তাল মিলিয়ে চলে। আর উইন্ডোজ আপডেটের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হতে থাকায় সবসময় পাওয়া যায় সর্বশেষ সংস্করণ ও সুরক্ষা।
র্যানসমওয়্যার প্রটেকশন
উইন্ডোজ সিকিউরিটিতে কন্ট্রোলড ফোল্ডার অ্যাকসেস নামে বিশেষ এক ফিচার রয়েছে। এর মাধ্যমে ফাইল এনক্রিপ্ট বা পরিবর্তন বন্ধ করতে যেকোনো অননুমোদিত অ্যাপকে আটকানো যায়। অর্থাৎ কয়েকটি ক্লিকেই নিশ্চিত করা যায় র্যানসমওয়্যার থেকে সুরক্ষা। এটি চালু করতে উইন্ডোজের সার্চ বারে লিখতে হবে ‘Ransomware Protection’। প্রথম ফলাফলে ক্লিক করলেই খুলে যাবে সংশ্লিষ্ট উইন্ডো। সেখান থেকে দেখা যাবে কোন অ্যাপগুলো ব্লক হয়েছে, নির্দিষ্ট ফাইলকে অতিরিক্ত সুরক্ষায় রাখা যাবে কিংবা প্রয়োজনে নির্ভরযোগ্য কোনো অ্যাপকে বিশেষ অনুমতিও দেয়া সম্ভব।
স্মার্টস্ক্রিন ফিল্টার
ক্ষতিকারক বা বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত কোনো ওয়েবসাইটে ভিজিটের চেষ্টা করা হলে স্মার্টস্ক্রিন ফিল্টার ফিচারের মাধ্যমে উইন্ডোজ সিকিউরিটি তা সতর্ক করে দেয়। এটি ক্লাউডভিত্তিক হওয়ায় নতুন কোনো স্ক্যাম বা সন্দেহজনক সাইট শনাক্ত হতেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয়।
ফিচারটি ব্যবহার করতে সার্চ বারে উইন্ডোজ সিকিউরিটি খুলতে হবে। এরপর বাম দিকে থাকা অ্যাপ ও ব্রাউজার কন্ট্রোলে যেতে হবে। সেখানে ‘রেপুটেশন-বেজ প্রটেকশনের’ অধীনে থাকা আন্ডারলাইন করা টেক্সট রেপুটেশন-বেজ প্রটেকশন সেটিংসে ক্লিক করলেই ফিচারের সেটিংস খুলে যাবে।
ট্যামপার প্রটেকশন
ট্যামপার প্রটেকশনকে ধরা যেতে পারে নিরাপত্তার ‘দ্বিতীয় স্তর’ হিসেবে। ব্যবহারকারীর ডিভাইসটি যদি অন্য কেউ ব্যবহারের চেষ্টা করে, তাহলে এটি প্রতিরোধ করে। যতদিন ট্যামপার প্রটেকশন চালু থাকবে, ব্যবহারকারীই একমাত্র ডিভাইসের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হবেন।
ফায়ারওয়াল ও নেটওয়ার্ক প্রটেকশন
উইন্ডোজ সিকিউরিটি শুধু অ্যান্টিভাইরাস বা অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার সুরক্ষা দেয় না, এর সঙ্গে রয়েছে নেটওয়ার্ক সুরক্ষার জন্য বিল্ট-ইন ফায়ারওয়াল। পাবলিক নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় এটা বেশ কাজে আসে। ফায়ারওয়াল নেটওয়ার্ক ট্রাফিককে ফিল্টার করে এবং নিশ্চিত করে ডিভাইসে যা প্রবেশ করছে বা বাইরে যাচ্ছে সবই নিরাপদ। ফায়ারওয়াল ব্যবহার করতে সার্চ বারে উইন্ডোজ সিকিউরিটি খুলতে হবে। বাম দিকে থাকা ফায়ারওয়াল অ্যান্ড নেটওয়ার্ক প্রটেকশন ট্যাবে গিয়ে পাবলিক নেটওয়ার্কে ক্লিক করুন। একইভাবে প্রাইভেট নেটওয়ার্কেও করুন। উইন্ডোর নিচে স্ক্রল করে ইনকামিং কানেকশনসের অধীনে থাকা বাক্সে টিক দিন। —মেকইউজঅব অবলম্বনে










