২০২৮ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী টেলিযোগাযোগ খাতের মোট আয় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছে প্রাইসওয়াটারহাউসকুপার্স (পিডব্লিউসি)। বৈশ্বিক অডিট এবং পরামর্শ সেবাদাতা সংস্থাটির ‘গ্লোবাল টেলিকম আউটলুক ২০২৪-২০২৮’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় ধরনের আয়ের পূর্বাভাস সত্ত্বেও বাজারের স্থিতিশীলতা, বাড়তি প্রতিযোগিতা ও পরিবর্তনশীল গ্রাহক আচরণের কারণে ধীরগতির প্রবৃদ্ধির মুখোমুখি হচ্ছে খাতটি। খবর ডিজিটাল ইকোনমি।

খরচ কমানোর চাপ, উচ্চ অবকাঠামোগত বিনিয়োগ ও নিয়ন্ত্রক সীমাবদ্ধতার মতো চ্যালেঞ্জ টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোর জন্য মুনাফা বাড়ানো কঠিন করে তুলছে। উল্লেখযোগ্য আয় বাড়ানোর মাঝে কোম্পানিগুলো শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা ও মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা ধরে রাখতে সংগ্রাম করতে পারে।

২০২৩ সালে ফিক্সড ও মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে আয় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ১৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ধীরগতির প্রবৃদ্ধির আভাস দিয়ে পিডব্লিউসি বলছে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত সমন্বিত বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার হবে ২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা প্রত্যাশিত মূল্যস্ফীতির তুলনায়ও কম।

বিশ্বব্যাপী টেলিযোগাযোগ খাত ক্রমেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। কারণ মূল পণ্য ও পরিষেবা ক্রমেই সহজলভ্য হওয়ায় প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এতে অবকাঠামোয় অব্যাহত বিনিয়োগের পরও মূল্যবৃদ্ধি কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘খাতের মূল পণ্য ও পরিষেবাগুলো সাধারণ পণ্যে পরিণত হচ্ছে। ফলে দাম বাড়ানো কঠিন হচ্ছে। যদিও অবকাঠামোয় অব্যাহত বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে।’

চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও পিডব্লিউসির পূর্বাভাস বলছে, ২০২৮ সালের মধ্যে টেলিকম খাতে অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি ডলার আয় বাড়বে। তবে টেলিকম অপারেটররা নতুন আয়ের উৎস খুঁজে বের করতে ও বিদ্যমান উৎসগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে বাড়তি চাপে রয়েছে।

পিডব্লিউসির প্রতিবেদনে টেলিকম খাতের অঞ্চলভিত্তিক পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। জাপান ও সুইজারল্যান্ডের মতো উন্নত দেশগুলোয় প্রবৃদ্ধি ধীর বা স্থবির হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভারত, নাইজেরিয়া, মিসর ও কেনিয়ার মতো উদীয়মান বাজারগুলোয় গড়ের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। ফিক্সড টেলিকম পরিষেবায় যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বেশির ভাগ দেশ বছরে শূন্য থেকে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে। তবে ভারত, নাইজেরিয়া, মিসর ও কেনিয়ার মতো কিছু দেশে অনেক দ্রুত বাড়ছে।

মোবাইল খাতের আয় প্রবৃদ্ধি বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে হচ্ছে। কলম্বিয়ায় সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে, যেখানে সমন্বিত বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। এর পরই রয়েছে ভারত ও আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে জাপান ও সুইজারল্যান্ডের মতো উন্নত দেশগুলোয় আয় কমছে।

বিশ্বব্যাপী টেলিযোগাযোগ খাতের প্রবৃদ্ধি ধীরগতির হলেও নাইজেরিয়ার টেলিযোগাযোগ খাত ২০২৪ সালে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দেশটিতে গত বছর মোবাইল সেবা খাতে আয় ৭৬০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। খাতটিতে ২০২৩-২৮ সালের মধ্যে সমন্বিত বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ, যা একে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল টেলিকম বাজারে পরিণত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইজেরিয়ার টেলিকম খাতের প্রবৃদ্ধি মূলত মোবাইল সংযোগের সংখ্যা বাড়ার কারণে হচ্ছে, ব্যবহারকারীদের গড় ব্যয় বাড়ার কারণে নয়। নাইজেরিয়ায় ফিক্সড-লাইন সেবার গড় আয় বছরে ১ দশমিক ৪ শতাংশ হারে কমতে পারে। তবে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ৯ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।