কোনো কোম্পানি মাইক্রোসফটের এআই টুল কোপাইলট ব্যবহার করলে প্রযুক্তিটি সাধারণত ওই প্রতিষ্ঠানের ভেতর থাকা সংবেদনশীল বা গোপন তথ্যের রেকর্ডে প্রবেশাধিকার পায় বলে এক জরিপে উঠে এসেছে। কোপাইলট কাজ করার সময় প্রতিষ্ঠানের অনেক গোপন ফাইল বা তথ্য দেখতে ও ব্যবহার করতে পারে। কনসেন্ট্রিক এআইয়ের ২০২৫ সালের ডাটা রিস্ক প্রতিবেদনে দেখা গেছে বছরের প্রথমার্ধে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ লাখ তথ্য কোপাইলটের কাছে আছে। খবর টেক রাডার।
তবে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, কোম্পানিটির এআই টুলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে শুধু এ ব্যবস্থাই যথেষ্ট নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত তথ্য পর্যালোচনা করতে ও অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বজুড়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এখন এআই প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে। ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানির বৈশ্বিক জরিপে জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী ৭৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অন্তত একটি ব্যবসায়িক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ব্যবহার করে এখন গ্রাহকসেবায় চ্যাটবট ও ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেবা দেয়া সম্ভব। এছাড়া ডাটা বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাসের মাধ্যমে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত আরো ভালোভাবে নেয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যবস্থাপনার মতো নিয়মিত কাজগুলোয়ও স্বয়ংক্রিয়তা আনা হচ্ছে, যাতে কাজ দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়।
টেকরাডারের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসায় এআই ব্যবহারে যেমন কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়ছে, তেমনি তথ্য ফাঁসের ঝুঁকিও বাড়ছে। সমীক্ষায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কোপাইলট ই-মেইল, ডকুমেন্ট ও ডাটাবেজসহ বিপুল তথ্যভাণ্ডার থেকে ডাটা টেনে নিতে পারে। কিন্তু অনেক ব্যবহারকারী এর ব্যাপ্তি পুরোপুরি বুঝতে পারেন না।
টেকরাডারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এআই টুল বিপুল তথ্যভাণ্ডার থেকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, আর্থিক বিবরণ কিংবা প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য উন্মুক্ত করে দিতে পারে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, মাইক্রোসফটের সেবার পরিধি বেশি থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে আছে। গড়ে এসব প্রতিষ্ঠান নিজের অজান্তেই কোপাইলটকে লক্ষাধিক তথ্যে প্রবেশাধিকার দিচ্ছে। যেখানে গ্রাহকের তথ্য থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ পর্যন্ত সবকিছুই রয়েছে।
সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় ফাইন্যান্স, স্বাস্থ্যসেবা ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতের আইটি প্রধানদের কাছে প্রশ্ন করা হয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, কোপাইলট ব্যবহারের সময় এটি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ মিলিয়ন বা ৩০ লাখ সংবেদনশীল বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখতে এবং ব্যবহার করতে পারে। যদিও মাইক্রোসফট বলেছে, কোম্পানির এআই টুলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে, তবে কোনো ভুল সেটিং বা কনফিগারেশন হলে ডাটা ফাঁসের ঝুঁকি থেকে যায়।
প্রতিবেদনে আরো দেখানো হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কোপাইলটের সেটিংসে খুব বেশি অনুমতি দেয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে বাইরে ফাঁস হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা আগে সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানিগুলোও সতর্ক করেছিল।
মাইক্রোসফট এ উদ্বেগের জবাবে বলছে, কোপাইলট টুলটি প্রতিষ্ঠান বা ব্যবহারকারীর ডাটা শুধু তাদের অনুমতি অনুযায়ী ব্যবহার করে। কাজ বা সেশন শেষ হলে কোনো তথ্য টুলে সংরক্ষণ করা হয় না।
কানেকটিকাট-ভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টনার প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা এর নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা তৈরির গতিকে ছাড়িয়ে গেছে। এতে করে নিরাপত্তা ও ডাটা সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে তথ্য কোথায় সংরক্ষণ করা হবে, তা নিয়ে।










