বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এক সপ্তাহের জন্য সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা টানা কয়েক মাস ধরে অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাচ্ছেন। এর মধ্যে অনেকেই প্রতি সপ্তাহে ৮০ ঘণ্টা কাজ করেছেন। তাদের শারীরিক ও মানসিক একটু বিশ্রামের সুযোগ দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সুত্র। তবে এ সময় নির্বাহী পর্যায়ের কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাবেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এদিকে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়্যারডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআই বন্ধ থাকলেও নির্বাহী পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ চালিয়ে যাবেন। প্রতিষ্ঠানটির সিইও স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, মেটা ওপেনএআইয়ের শীর্ষ কর্মীদের দলে টানার জন্য ১০ কোটি ডলার পর্যন্ত বোনাসের প্রস্তাব দিচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন একটি গবেষণা বিভাগের জন্য ওপেনএআই থেকে একের পর এক গবেষককে দলে টানছে মেটা। সম্প্রতি ওপেনএআইয়ের গবেষক ট্র‍্যাপিট বংশালসহ চারজন নিয়োগ দেয়ার পর এবার আরো চার শীর্ষ গবেষককে নিযুক্ত করেছে মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠানটি।

ওপেনএআইয়ের প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা মার্ক চেন এর পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে কেউ আমাদের বাড়িতে ঢুকে কিছু চুরি করে নিয়ে গেছে। তবে আশ্বস্ত করছি, আমরা চুপচাপ বসে নেই।’

তিনি জানান, অল্টম্যানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছেন, যাতে যারা মেটার অফার পেয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলা যায় এবং প্রতিষ্ঠানকে ধরে রাখা যায়।

মার্ক চেন আরো জানান, প্রতিষ্ঠান নতুন করে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করছে এবং শীর্ষ প্রতিভাদের পুরস্কৃত করার সৃজনশীল উপায় খুঁজছে। কর্মীদের উদ্দেশে ওপেনএআইয়ের আরো সাতজন সিনিয়র গবেষকও একযোগে বার্তা দিয়েছেন।

একজন বলেছেন, যদি কেউ চাপ সৃষ্টি করে বা অস্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের স্পষ্টভাবে না বলতে দ্বিধা করবেন না। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চাপের মধ্যে পড়া উচিত নয়।

এদিকে মেটা জানিয়েছে, চলতি বছর কোম্পানিটি কমপক্ষে ৬ হাজার কোটি ডলার এআই খাতে বিনিয়োগ করবে। এরই মধ্যে ‘মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’ নামে নতুন গবেষণা বিভাগ গঠন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এটির নেতৃত্ব দেবেন স্কেল এআইয়ের সাবেক সিইও আলেক্সান্দ্র ওয়াং, যিনি এখন মেটার চিফ এআই অফিসার।

গুগল ও মাইক্রোসফটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে মেটা এআই খাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।