তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে (টিএসএমসি) ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে ইন্টেল। এর মধ্যে আসন্ন ২০২৪ সালে ৪০০ কোটি এবং ২০২৫ সালে আরো ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে গিজচায়নার খবরে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইন্টেলের লুনার লেক প্রসেসরে প্রথমবারের মতো অন্য জায়গায় উৎপাদিত সিপিইউ কোর ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে টিএসএমসির ওপর ইন্টেলের নির্ভরশীল হওয়ার বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির (টিএসএমসি) ৩ ন্যানোমিটার নোড নামে নতুন প্রযুক্তি রয়েছে। অ্যাপলে এমথ্রি ও এ১৭ প্রসেসর এ প্রযুক্তিতেই তৈরি। সম্প্রতি এক বিশ্লেষক জানান, ইন্টেলও এ প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করবে। বর্তমানে টিএসএমসির ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় গ্রাহক হচ্ছে অ্যাপল। এ প্রযুক্তি গ্রহণ করলে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হবে ইন্টেল এবং তৃতীয় হবে এএমডি।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ টিএসএমসির কাছ থেকে ইন্টেল প্রতি মাসে ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি ১৫ হাজার ওয়াফার পাবে। ২০২৫ সাল নাগাদ তা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

ক্রয়াদেশ চাহিদার বিপরীতে এ সংখ্যা কিছুটা বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। কেননা ২০২৪ সালে প্রতি মাসে ১৫ হাজার ওয়াফারের মূল্য ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি। কিন্তু ২০২৫ সালে দ্বিগুণ ওয়াফারের জন্য ব্যয় হবে ১ হাজার কোটি ডলার। সংশ্লিষ্টদের মতে, ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি ওয়াফারের দাম প্রতিনিয়ত কমার কারণে ব্যয়ও নাগালের মধ্যে চলে আসবে।

প্রযুক্তির সঙ্গে উৎপাদন কার্যক্রমও উন্নত হতে থাকে। ফলে কোম্পানি কম সময়ে বেশি ইউনিট পণ্য উৎপাদন করতে পারে। যে কারণে ২০২৫ সালে ইন্টেল বেশি ওয়াফার বা চিপের ক্রয়াদেশ দিলেও খরচ তুলনামূলক কম হবে। লুর বিশ্বাস, ভবিষ্যতে হয়তো টিএসএমসির ফাউন্ড্রির ওপরই নির্ভরশীল হবে ইন্টেল। টিএসএমসির সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে ইন্টেল অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা পাবে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।

টিএসএমসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেলের নির্ভরতা অল্পদিনে হয়নি। আর্ক আলকেমিস্ট গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট তৈরিতে কাজ করছে টিএসএমসি। এছাড়া পন্টে ভেচিও চিপও উৎপাদন করছে তাইওয়ানের এ কোম্পানি। মিটিওর লেক চিপ উৎপাদনেও টিএসএমসি ৫ ও ৬ ন্যানোমিটার প্রসেস প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন ব্যাটলমেজ ও সেলেস্টিয়াল জিপিইউ উৎপাদনেও কাজ করবে টিএসএমসি।

যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ইন্টেল যখন বিনিয়োগে ব্যস্ত ভারত তখন নিজস্ব চিপ উৎপাদনে কাজ করছে। দেশটি ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির চিপ তৈরিতে কাজ করছে। জাপানের ফুজিৎসু কোম্পানির অধীনে ভারতে থাকা গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) বিভাগ এটি তৈরিতে কাজ করছে।

প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে থাকার জন্য কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছেন ভারতীয় ইঞ্জিনিয়াররা। ফুজিৎসু মোনাকা কোডনেমে চিপ তৈরির কাজ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ২০২৭ সালের দিকে এটি বাজারে আসতে পারে। এ চিপটি উচ্চ সক্ষমতার কম্পিউটিং (এইচপিসি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডাটা সেন্টারে ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়েছিলেন ফুজিৎসুর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) ভিভেক মহাজন। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, জাপানের বাইরে কোম্পানির জন্য গবেষণার অন্যতম হাবে পরিণত হয়েছে ভারত। মোনাকা চিপটি নিয়ে ফুজিৎসু বেশ আশাবাদী। কোম্পানির মতে, উচ্চ সক্ষমতার কম্পিউটিংয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী চিপ হতে যাচ্ছে এটি। বর্তমানে প্রযুক্তি খাতে এ ধরনের চিপের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

উন্নত প্রযুক্তির বিদ্যুৎসাশ্রয়ী চিপটির সফটওয়্যার উন্নয়ন হয়েছে ভারতের বাইরে। মহাজন বলেন, ‘এটি আর্মভিত্তিক ২ ন্যানোমিটার প্রসেসর। মেশিন লার্নিং, ভারী কম্পিউটিং ও ডাটা সেন্টারে ব্যবহারের জন্য মূলত এ প্রসেসর তৈরি করা হচ্ছে।’