অনলাইন হ্যাকিং ও সাইবার ঝুঁকি থেকে স্মার্টফোন রক্ষা করা যেমন জরুরি, ঠিক তেমনি ডিভাইসটি যেকোনো সময় বেহাত হতে পারে এমন আশঙ্কায় এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফোন চুরি হয়ে গেলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, ব্যক্তিগত তথ্যও চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। নিচে স্মার্টফোন চুরি প্রতিরোধে কার্যকর ছয়টি কৌশল তুলে ধরা হলো—

অ্যান্টি-থেফট ফিচার চালু

অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে বিল্ট-ইন চুরি প্রতিরোধের ফিচার থাকে। যেমন অ্যান্ড্রয়েড ১৬-তে ‘অ্যাডভান্সড প্রটেকশন’ এবং ‘থেফট ডিটেকশন লক’ সুবিধা রয়েছে, যা ফোন কেড়ে নেয়া হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক করে দেয়। ফোন অফলাইন হলেও ‘অফলাইন ডিভাইস লক’ ফোনটি সুরক্ষিত রাখে। একইভাবে তিনদিন ব্যবহার না হলে ফোন রিবুট হয়ে আবারো লক হয়।

অন্যদিকে অ্যাপলের আইওএসে ‘স্টোলেন ডিভাইস প্রটেকশন’ আছে, যা ফোন চুরি হলে গুরুত্বপূর্ণ সেটিংসে পরিবর্তন করার জন্য ১ ঘণ্টার নিরাপত্তা বিলম্ব (security delay) যোগ করে, ফলে ব্যবহারকারী ফোনটি রিমোট থেকে লক করে দিতে পারেন।

ই-সিম ব্যবহার করা

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত সিমের চেয়ে ই-সিম অনেক বেশি নিরাপদ। কারণ এটি সহজে খুলে ফেলা যায় না। ফলে ফোনটি কেউ বিক্রি বা ব্যবহারের সুযোগ পায় না। ই-সিম ব্যবহারে ফোন ট্র্যাক করাও সহজ হয়। যদিও এটি হ্যাক করা সহজ, তবে তা অত্যন্ত জটিল এবং অনভিজ্ঞদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপে বায়োমেট্রিক লক চালু

ফেস আইডি বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে ব্যাংক, স্বাস্থ্যসেবা বা মেসেজিং অ্যাপগুলো লক করে রাখা উচিত। আইফোনে সরাসরি অ্যাপে গিয়ে ‘Require Face ID’ চালু করা যায়। অ্যান্ড্রয়েডে সরাসরি ফিচারটি না থাকলেও ‘প্রাইভেট স্পেস’ ব্যবহার করে অ্যাপ লুকানো ও বায়োমেট্রিক লক দেয়া সম্ভব। যেমন স্যামসাংয়ে ‘সিকিউরড ফোল্ডার’ নামে এমন একটি সুবিধা রয়েছে।

ট্র্যাকিং ফিচার সক্রিয় রাখা

অ্যাপলের ফাইন্ড মাই এবং গুগলের ফাইন্ড হাব ফিচার ফোন চুরি হয়ে গেলে শনাক্ত করতে সাহায্য করে। ফাইন্ড হাবের নতুন সংস্করণ এমনকি ফোন বন্ধ থাকলেও কাজ করে।

নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট দেয়া

গুগল ও অ্যাপল নিয়মিত নিরাপত্তা ফিচার আপডেট করে। অনেক সময় ছোট আপডেটও ফোনের নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেয়। ফলে ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে ট্র্যাকিং ও লক করার সুযোগ থেকে যায়।

টেথার (Tether) ব্যবহার করা

চুরি ঠেকাতে সবচেয়ে প্রাচীন উপায় হচ্ছে ফোনকে শরীরের সঙ্গে যুক্ত রাখা। বাজারে এমন কিছু ফোন টেথার বা ল্যানিয়ার্ড পাওয়া যায় যেগুলো দিয়ে ফোনটি শরীরের সঙ্গে দড়ির মাধ্যমে সংযুক্ত রাখা যায়। এতে ভিড়ে চোর ফোন সরাতে পারবে না। যদিও এটি সব সময় আরামদায়ক নয়, তবে মানুষে ভরা বাস বা মার্কেটে কার্যকর প্রমাণ হতে পারে।

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি আমাদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের অন্যতম সংরক্ষণাগার। তাই যেমন হ্যাকিং থেকে ফোন রক্ষা করা দরকার, তেমনি বাস্তব জগতে চুরি থেকেও ফোনকে রক্ষা করা জরুরি। একটু সচেতনতা ও কিছু নিরাপত্তা সেটিংস ফোন বেহাত হওয়া ঠেকাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এমইউও অবলম্বনে