চিপ রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে চীনা বাজারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) নতুন চিপ বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছে এনভিডিয়া। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নতুন এ চিপের ব্যাপক উৎপাদন শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্রের এ সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন প্রতিষ্ঠান। রয়টার্স প্রকাশিত খবরে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চীনের প্রযুক্তিবাজারের জন্য এনভিডিয়ার তৈরি তিনটির চিপের মধ্যে একটি হচ্ছে এইচ২০। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল সেটি কাটিয়ে ওঠার জন্য এ চিপ তৈরি করা হয়।

গত নভেম্বরে চিপটি বাজারজাতের কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে নেয়া হয়। বিভিন্ন সূত্র রয়টার্সকে জানায়, চিপ তৈরিতে যে সার্ভার ব্যবহার করা হয়েছিল সেটিতে ত্রুটি থাকায় বাজারজাতের সময় পিছিয়ে নেয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যে চিপ তৈরি হবে সেটির সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হবে বলে কোম্পানিসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এনভিডিয়া বড় কোম্পানিগুলোর কাছ থেকেই ক্রয়াদেশ পেয়েছে বলে জানা যায়। তবে সূত্রগুলো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। এছাড়া এনভিডিয়াও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

রয়টার্স প্রকাশিত আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা কোম্পানিগুলো অনুন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি এইচ২০ চিপ ক্রয়ে অনাগ্রহী। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে এমন শঙ্কা থাকায় এশিয়ার দেশটি অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে চিপ উৎপাদনে কাজ করছে। ২০২৩ সালে সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট বাইদু হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের কাছে এআই চিপের ক্রয়াদেশ দিয়েছিল। এর আগে এনভিডিয়াই কোম্পানিটির চিপ সরবরাহ করত।

এইচ২০-এর সঙ্গে নতুন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া এল২০ ও এল২ নিয়েও কাজ করবে এনভিডিয়া। তবে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি এখনো তিনটি চিপ বিক্রির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। এছাড়া গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে কোম্পানিটি নতুন নীতিমালা মেনে গেমিং চিপটির নতুন একটি ধরন প্রকাশ করেছে।

চীনে বাজার হিস্যা ধরে রাখার জন্য নতুন চিপের ওপরই ভরসা করছে এনভিডিয়া। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এ৮০০ ও এইচ৮০০ চিপ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ছিল। ২০২২ সালের নভেম্বরে মাইক্রোচিপ ও সরঞ্জাম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর এক মাস পর চীনের গ্রাহকদের জন্য এ৮০০ ও এইচ৮০০ চিপ বাজারজাত শুরু করে এনভিডিয়া।

চিপ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেমিঅ্যানালাইসিসের তথ্যানুসারে, এইচ২০, এল২০, এল২সহ এনভিডিয়ার নতুন ফিচারযুক্ত এআই চিপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতিমালা অনুসরণ করে তৈরি করা হচ্ছে। ফলে এগুলোর কম্পিউটিং সক্ষমতা আগের ভার্সনগুলোর তুলনায় কম থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এনভিডিয়া চীনের বাজার ধরে রাখার জন্য যখন নতুন চিপ তৈরির কথা ভাবছে তখন অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে সেমিকন্ডাক্টর ও মাইক্রোকন্ট্রোলার ইউনিটের (এমসিইউ) উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে দেশটির চিপ উৎপাদনকারী কোম্পানি মাইক্রোচিপ টেকনোলজিকে ১৬ কোটি ২০ লাখ ডলার অনুদান দেয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ তহবিলের মাধ্যমে মাইক্রোচিপ যুক্তরাষ্ট্রের দুটি কারখানায় ম্যাচিউর-নোড সেমিকন্ডাক্টর চিপ ও মাইক্রোকন্ট্রোলার ইউনিটের উৎপাদন তিন গুণ করতে পারবে। উৎপাদিত উপাদানগুলো গাড়ি, ওয়াশিং মেশিন, সেলফোন, ইন্টারনেট রাউটার, উড়োজাহাজ ও প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য অত্যাবশ্যক।

বাণিজ্যমন্ত্রী গিনা রাইমন্ডো এক বিবৃতিতে জানান, সেমিকন্ডাক্টরের সরবরাহ শৃঙ্খলকে জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ অনুদান দেয়া হচ্ছে।