চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিশ্বব্যাপী পিসি বিক্রি বেড়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সময়ে বিক্রি হয়েছে ৬ কোটি ৮৪ লাখ ব্যক্তিগত কম্পিউটার। আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ উঠে এসেছে।
সংস্থাটি বলছে, অন্য অঞ্চলগুলোয় পিসি বাজারে প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমদানি শুল্কনীতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
আইডিসির ওয়াল্ডওয়াইড মোবাইল ডিভাইস ট্র্যাকার বিভাগের রিসার্চ ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ ফিলিপ বুচার্ড বলছেন, ‘গত প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কিছুটা মন্দা দেখা দেবে বলে আমরা আগেই অনুমান করেছিলাম। কারণ বছরের শুরুতে প্রচুর পণ্য মজুদ হয়েছিল। ফলে নতুন করে আর পণ্য কেনার প্রয়োজন পড়েনি। তবে এখন আমদানি শুল্কের কারণে দেশটিতে পিসির চাহিদা কমে আসছে।’
তিনি আরো জানানা, যুক্তরাষ্ট্রে পিসি বাজার স্থির থাকলেও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে পুরনো ডিভাইস পরিবর্তন এবং উইন্ডোজ ১১-এ ধীরে ধীরে রূপান্তরের কারণে চাহিদা বেড়েছে।
আইডিসির ওয়াল্ডওয়াইড ডিভাইস ট্র্যাকার বিভাগের গ্রুপ ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান রেইথ বলছেন, ‘শুল্ক, চাহিদার ওঠানামা, বাণিজ্য সংকট বা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেও এ বাজারে প্রবৃদ্ধি দেখা কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু কিছু বিষয় আছে, যা বাজারের গতি বজায় রাখতে সাহায্য করছে।’
তিনি জানান, এমন পরিস্থিতির মধ্যেও সরবরাহপক্ষ (উৎপাদক ও বিক্রেতারা) নিজেদের সাধ্যমতো এগোচ্ছে। কারণ কেউই সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না। তবে একই সঙ্গে, বছরের প্রথমার্ধে অনেক পণ্য বিক্রি হয়ে যাওয়ায় এখন অতিরিক্ত মজুদ রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেষ দিকে ও তার পর বাজারে চাহিদা কেমন থাকবে তা বলা মুশকিল।
গত এপ্রিলে বিভিন্ন দেশের আমদানি পণ্যের ওপর নতুন করে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল পিসি, স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস। অবশ্য পরবর্তী সময় সে ঘোষণা তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেয়া হয়। একই সঙ্গে স্মার্টফোন ও কম্পিউটারসহ বেশকিছু ইলেকট্রনিক পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ প্রত্যাহার করে ট্রাম্প প্রশাসন।
কিন্তু এ ঘোষণার পর পরই যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর আমদানিতে আবারো শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। ফলে এক্ষেত্রে স্মার্টফোন ও কম্পিউটার পণ্য যে ছাড় পেয়েছিল তার মেয়াদ ক্ষণস্থায়ীই বলে ধরে নেন বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যতে শুল্ক আবার বাড়তে পারে বা নতুন নিয়ম আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়া চীনা পণ্যের ওপর আগের ২০ শতাংশ শুল্কও বহাল রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র শুল্কের কারণে অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে একান্ত প্রয়োজন নেই, এমন ডিভাইসে ভোক্তাদের খরচ কমবে। এতে পিসি, স্মার্টফোনসহ ইলেকট্রনিকস ডিভাইস বিক্রির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রি ও বাজার হিস্যার দিক থেকে শীর্ষ পাঁচে থাকা কোম্পানি হলো লেনোভো, এইচপি, ডেল, অ্যাপল ও আসুস।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) শক্তিশালী ফলাফলের পর বিশ্বব্যাপী পিসি বিক্রির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে আইডিসি। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরির মধ্যেও ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৭ কোটি ইউনিটের বেশি পিসি বিক্রির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বিশ্বব্যাপী পিসি বিক্রি ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ।










