বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজারে গড় ক্রয়মূল্য (এএসপি) আগামী কয়েক বছরে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রিমিয়াম মডেল, উন্নত ফিচার ও ফাইভজি প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতার কারণে এ প্রবৃদ্ধি হবে বলে জানিয়েছে হংকংভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ মার্কেট আউটলুক ট্র্যাকার অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের গড় ক্রয়মূল্য এখন (২০২৫ সাল) ৩৭০ ডলার। বার্ষিক ৩ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে বেেড় ২০২৯ সালে তা পৌঁছবে ৪১২ ডলারের বেশিতে। এ চার বছরে বৈশ্বিক স্মার্টফোনের সার্বিক মূল্যবৃদ্ধির হার ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ ছাড়াবে।

বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের গড় মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে প্রিমিয়াম মডেলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি। এর মধ্যে অ্যাপলের প্রিমিয়াম মডেল, মোবাইল অপারেটরদের ক্রমাগত প্রচারণা এবং বিভিন্ন ব্রান্ডের ফোল্ডেবল ফোনের চাহিদা বাড়ায় ২০২৬ সালে প্রিমিয়াম মডেলের স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য দাড়াঁবে ৯৮৪ ডলারে। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় প্রিমিয়াম বাজার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক স্মার্টফোনের গড় মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক এএসপিতে এ বাজারের অবদান ক্রমেই সীমিত হয়ে আসবে।

চীনের বাজারে হুয়াওয়ে, অপো ও ভিভোর মতো প্রধান ব্র্যান্ডগুলো এএসপি বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। ২০২৫ সালে চীনে অ্যাপলের গড় ক্রয়মূল্য প্রো মডেলের বিক্রি বাড়ার কারণে ২ শতাংশ বাড়বে। চীনের প্রিমিয়াম মার্কেটে স্থানান্তর ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাজারকেও প্রভাবিত করবে।

ভারতের বাজার মূলত মাঝারি দামের স্মার্টফোননির্ভর। ২০২৫ সালে ভারতের গড় ক্রয়মূল্য ২৫০ ডলারের নিচে থাকলেও প্রিমিয়ামাইজেশনের সঙ্গে সঙ্গে ২০২৯ সালে ২৮৭ ডলার পর্যন্ত বাড়বে। ফিচার ফোন থেকে স্মার্টফোনে স্থানান্তর, গ্রামীণ ও আধা-শহুরে অঞ্চলে চাহিদা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি আত্তীকরণের মাত্রাবৃদ্ধি এক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

অ্যাপল প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য ২০২৫ সালের ৯১৯ ডলার থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অ্যাপল দুটি কৌশল অনুসরণ করছে, বিক্রির জন্য আইফোন ই ও আইফোন এয়ার মডেলের মাধ্যমে উদীয়মান বাজারে সম্প্রসারণ এবং প্রিমিয়াম প্রো মডেল দিয়ে উচ্চমূল্যে আধিপত্য বজায় রাখা। ২০২৬ সালের শেষের দিকে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন এএসপি আরো বাড়াতে পারে।

স্যামসাংয়ের গড় ক্রয়মূল্য স্থিতিশীল থাকলেও ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ফ্ল্যাগশিপ মডেলের দুর্বল বিক্রি এটি কিছুটা কমাবে। তবে ফোল্ডেবল ফোন ও জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি দীর্ঘমেয়াদে এএসপি প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করবে। অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ব্র্যান্ড, যেমন শাওমি, অপো ও ভিভোও প্রিমিয়ামাইজেশন করছে, তবে চীনে চাহিদা কম এবং ভারতে মাঝারি ধরনের পারফরম্যান্সের কারণে এএসপি বৃদ্ধি সীমিত। হুয়াওয়ে চীনের বাজারে মেটা ও পি সিরিজের এবং ফোল্ডেবল ফোনের কারণে এএসপি বাড়াচ্ছে।

বৈশ্বিক স্মার্টফোন সরবরাহ ২০২৫ সালে ২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আর গড় ক্রয়মূল্য বৃদ্ধির কারণে এ খাতের আয় প্রায় ৬ শতাংশ বাড়বে। করোনা মহামারী, সাপ্লাই চেইন চ্যালেঞ্জ এবং শুল্কভিত্তিক অস্থিরতার পর বাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে। জেনারেটিভ এআই ফোন ও ফোল্ডেবল স্মার্টফোন গ্রাহকের মধ্যে প্রিমিয়াম গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে।

২০২৯ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য ধীরে ধীরে বাড়বে। প্রিমিয়াম মডেলের গ্রহণযোগ্যতা, এআই প্রযুক্তি ও ফোল্ডেবল উদ্ভাবন এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এমনকি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।