যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশী ইলেকট্রনিক পণ্যে থাকা চিপের সংখ্যা ও মান অনুযায়ী শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বাস্তবায়ন হলে টুথব্রাশ থেকে শুরু করে ল্যাপটপ পর্যন্ত নানা পণ্যে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য সেমিকন্ডাক্টর পণ্যে বিদেশী আমদানির ওপর নির্ভর করা যাবে না। এজন্য উৎপাদন ফিরিয়ে আনতে শুল্ক, কর ছাড়, নিয়ম শিথিলকরণ ও জ্বালানি সরবরাহসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

এ পরিকল্পনা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ মাইকেল স্ট্রেইন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ফেডারেল রিজার্ভের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। নতুন শুল্ক স্থানীয় পণ্যের খরচও বাড়াবে। কারণ এসব পণ্যে বিদেশী উপকরণ ব্যবহার হয়।’

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ফার্মাসিউটিক্যালস ও সেমিকন্ডাক্টর আমদানির ওপর তদন্ত শুরু করেছিল। যুক্তি ছিল, বিদেশী উপকরণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এরই মধ্যে ব্র্যান্ডেড ওষুধে শতভাগ ও ভারী ট্রাকে ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে এখনো স্পষ্ট নয় কোন পণ্যে কত শুল্ক বসবে বা কোন দেশ ও কোম্পানি ছাড় পাবে। গত আগস্টে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেমিকন্ডাক্টর আমদানিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে। তবে যারা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন করছে বা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের ছাড় দেয়া হবে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সবচেয়ে বড় চিপ নির্মাতা তাইওয়ানের টিএসএমসি ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং।

সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে চিপ-সংশ্লিষ্ট কনটেন্টের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ভাবা হচ্ছে। তবে জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যে হার হতে পারে ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে বিনিয়োগের ভিত্তিতে ডলারপ্রতি ডলার ছাড়ের প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।

এছাড়া চিপ তৈরির যন্ত্রপাতিকে শুল্কমুক্ত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যাতে দেশীয় উৎপাদনের খরচ না বাড়ে। তবে হোয়াইট হাউজ এতে সন্তুষ্ট নয়। কারণ ট্রাম্প কোনো ধরনের ছাড় দিতে আগ্রহী নয়।