ওপেনএআইয়ের জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে আবারো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। গোপনীয়তাসংক্রান্ত অধিকার সংরক্ষণকারী সংগঠন নয়ব নরওয়ের এক ব্যক্তির পক্ষে অভিযোগটি দায়ের করেছে। খবর টেকক্রাঞ্চ।

নয়বের অভিযোগ, চ্যাটজিপিটি ওই ব্যক্তি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য তৈরি করেছে, যেখানে দাবি করা হয় তিনি তার দুই সন্তানকে হত্যার জন্য এবং তৃতীয় সন্তানকে হত্যাচেষ্টার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে চ্যাটজিপিটির ব্যক্তিগত তথ্যসংক্রান্ত অভিযোগে জন্মতারিখ বা জীবনী নিয়ে ভুল তথ্য ছিল। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ওপেনএআই ব্যবহারকারীদের ভুল তথ্য সংশোধন করার কোনো পদ্ধতি বাতলে দেয় না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাধারণ ডাটা সুরক্ষা বিধি (জিডিপিআর) অনুযায়ী, ইউরোপীয় নাগরিকদের ডাটা নিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে, যার মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত।

নয়ব টেকক্রাঞ্চের সঙ্গে একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেছে। যেখানে দেখা যায়, চ্যাটজিপিটিকে এক ব্যক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। প্রশ্নের উত্তরে চ্যাটজিটিপি বলে, তাকে শিশু হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে ও তার দুই ছেলেকে হত্যার জন্য ২১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

নয়ব বলছে, চ্যাটজিপিটি কিছু সত্য তথ্যও দিয়েছে, যেমন ওই ব্যক্তির তিনজন সন্তান আছে, তাদের লিঙ্গ সঠিক এবং তার শহরের নামও সঠিক। তবে এসব তথ্যের সঙ্গে ভিত্তিহীন তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে।

সংগঠনটির আইনজীবী জোয়াকিম সোডারবার্গ বলেন, ‘জিডিপিআরে স্পষ্টভাবে বলা আছে, ব্যক্তিগত ডাটা সঠিক হতে হবে। শুধু একটি ছোট্ট সতর্কীকরণ যোগ করে বলা যাবে না যে তথ্য ভুল হতে পারে। মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অনুমতি জিডিপিআর দেয় না। জিডিপিআর লঙ্ঘনের জন্য বিশ্বব্যাপী বার্ষিক টার্নওভারের ৪ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।’

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ইতালির ডাটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হস্তক্ষেপে চ্যাটজিপিটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। ফলে ওপেনএআই ব্যবহারকারীদের কাছে প্রকাশ করা তথ্যে পরিবর্তন আনে। পরে ডাটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ ওপেনএআইকে ব্যবহারকারীর তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য ১৫ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করে।